সঙ্গীতা ঘোড়ুই : অনেক পরিবারেই এক সমস্যা নিয়মিত দেখা যায় বাড়ির খুদে সদস্য ভাত-রুটি (Rice, Roti) বা সব্জি (Vegetables) মুখে তুলতে চায় না। অথচ পিৎজ়া (Pizza), পাস্তা (Pasta), বার্গার (Burger) বা নুডলস (Noodles) দিলে নিমেষেই খেয়ে নেয়। ফলত, অভিভাবকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুকে (Parenting Tips) বকাঝকা করলে বা জোর করে খাওয়াতে গেলে উল্টে ফলাফল খারাপ হতে পারে। বরং কৌশলে খাবার পরিবেশন করলে এবং খাবারের আকার-আকৃতি ও স্বাদে পরিবর্তন আনলে ছোটরা আগ্রহী হয়। তাই একটু বুদ্ধি খাটালেই সব্জি খাওয়ানো সহজ হতে পারে।

প্রথমেই আসি পাস্তার প্রসঙ্গে। পাস্তা শিশুদের প্রিয়। যদি সেই পাস্তার সসে ব্রকলি (Broccoli), পালং শাক (Spinach), পেঁয়াজ (Onion), রসুন (Garlic) ইত্যাদি সব্জি সেদ্ধ করে বেটে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে তারা বুঝতেও পারবে না যে সব্জি খাচ্ছে। শুধু সামান্য দুধ (Milk) আর মাখন (Butter) দিয়ে রান্না করলে সস আরও মজাদার হয়ে উঠবে। উপর থেকে গ্রেট করা চিজ় (Cheese) ছড়িয়ে দিলেই খুদে খেয়ে নেবে নিমেষে। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ময়দার পাস্তা নিয়মিত খাওয়ানো ঠিক নয়। তার বদলে আটা (Wheat) বা মিলেট (Millet Pasta) ব্যবহার করা স্বাস্থ্যকর বিকল্প।

শিশুরা ভাজাভুজি ভালোবাসে। তাই মায়েরা চাইলে পনির (Paneer) দিয়ে সব্জির কবাব তৈরি করতে পারেন। পনির গ্রেট করে তার সঙ্গে গাজর (Carrot), ধনেপাতা (Coriander), পেঁয়াজ এবং সামান্য গুঁড়ো মশলা (Spices) মিশিয়ে ননস্টিক কড়াইয়ে সেঁকে নিলেই তৈরি সুস্বাদু কবাব। এতে ভিটামিন ও প্রোটিন (Protein) যেমন থাকবে, তেমনি শিশুরাও আনন্দের সঙ্গে খাবে। ভাত বা রুটি না খেলেও এই ধরনের খাবার শরীরের জন্য কার্যকর।
রুটিকেও রঙিন করে তুললে শিশুদের খাওয়ার আগ্রহ বাড়বে। মেথি শাক (Fenugreek Leaves) বা পালং শাক ভাপিয়ে আটার সঙ্গে মেখে নিলে সবুজ রুটি বা পরোটা তৈরি হবে। আবার বিটরুট (Beetroot) বা গাজর সেদ্ধ করে মিশিয়ে দিলে তৈরি হবে লালচে রঙের রুটি। রঙিন খাবার দেখে শিশুরা আগ্রহী হয়ে উঠবে, এবং অজান্তেই সব্জি খেয়ে নেবে।

অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, শিশুদের খাওয়ানোর সময় ধৈর্য্য (Patience) খুব জরুরি। খাবারের রঙ, স্বাদ ও পরিবেশনের ধরন (Food Presentation) শিশুদের মন টানে। তাই জোর না করে একটু কৌশল ব্যবহার করলে শিশু যেমন আনন্দের সঙ্গে খাবে, তেমনি সুস্থও থাকবে।
