Recruitment Scam: চাকরির ঘুষে গড়া ছয়তলা ভবন! ইডির হাতে চন্দ্রনাথ

অপরাধ আইন কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) মামলায় অভিযুক্ত রাজ্যের কারা ও ক্ষুদ্র কুটির শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের (Chandranath Singh) স্ত্রী কুন্তলা সিংহের (Kuntala Singh) ব্যবসার টাকা কোন পথে ঘুরেছে, সেই খোঁজে নেমেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। ইডির হাতে আসা চার্জশিটে উঠে এসেছে শান্তিনিকেতনের (Santiniketan) জমি-সহ একাধিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, কৃষি ও ব্যবসার নামে যে টাকা দেখানো হচ্ছে, আসলে তা শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির টাকা।

আরও পড়ুন: SSC Teacher Recruitment Exam Updates: অক্টোবরের শেষে ফল, নভেম্বর থেকে ইন্টারভিউ—এসএসসি ঘোষণা করল রোডম্যাপ

চার্জশিটে বলা হয়েছে, কুন্তলা সিংহ বিকাশ ভক্ত (Bikash Bhakta)-র সঙ্গে যৌথভাবে ‘বি কে কনস্ট্রাকশন’ (BK Construction) নামে জমি কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। বিকাশ ইডিকে জানান, তিনি ব্যবসার কার্যত দায়িত্বে ছিলেন এবং কুন্তলা ছিলেন ‘স্লিপিং পার্টনার’। প্রথমে ৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে ৩.০২৫ কাঠা জমি কেনা হয়। তবে ওই সংস্থার নামে কোনও আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়নি এবং বর্তমানে ব্যবসাটি নিষ্ক্রিয়।

ইডির নথিতে শান্তিনিকেতনের একটি বড় জমির তথ্যও রয়েছে। ২০১৮ সালে কুন্তলা ১ কোটি ৮০ লক্ষ টাকায় জমি কিনে সেখানে বিকাশের সংস্থা ‘কেবিপি রিয়েলটি এলএলপি’ (KBP Realty LLP)-র মাধ্যমে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেন। ওই ভবনের ১৯টি ফ্ল্যাট কুন্তলার নামে আসে এবং বিক্রি করার ‘Power of Attorney’ দেওয়া হয় বিকাশকে। বিকাশ ইডিকে জানিয়েছেন, ফ্ল্যাট বিক্রি করে তিনি কুন্তলাকে ১ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা দেন। ২০২২ সালে আরও একটি প্রকল্পের জন্য কুন্তলার সঙ্গে নতুন চুক্তি করেন বিকাশ, যা এখনও চলছে। ২০২৩ সালে চন্দ্রনাথের দুই পুত্রের সঙ্গে ইলামবাজারে (Illambazar) ব্যবসায়িক ভবন নির্মাণ করে ভাড়ায় দেওয়া হয়।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

তবে কুন্তলা দাবি করেছেন, এই সমস্ত ব্যবসা বা অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। স্বামী চন্দ্রনাথই সব সামলাতেন। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে কুন্তলার আয়কর রিটার্নে ৪৪ লক্ষ টাকার জমার তথ্য দেওয়া হলেও বাস্তবে জমা হয়েছিল মাত্র ৭ লক্ষ টাকা। নোটবন্দির সময় তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকার লেনদেন নিয়েও গরমিল ধরা পড়েছে। ইডির মতে, বোলপুরের (Bolpur) নায়েকপাড়ায় তাঁদের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৪১ লক্ষ নগদ এবং একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা বিপুল টাকার উৎস নিয়ে চন্দ্রনাথ বা তাঁর পরিবার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বরং তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে সংগৃহীত ঘুষের টাকা বৈধ আয়ের মতো দেখাতে কৃষি ও জমি ব্যবসাকে ব্যবহার করা হয়েছে।

এছাড়া, নিয়োগ মামলায় অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ (Kuntal Ghosh)-এর বাড়ি থেকে উদ্ধার লাল খাতাতেও চন্দ্রনাথের নাম পাওয়া যায়। পরে তাপস মণ্ডল (Tapas Mondal) এবং কুন্তল ঘোষের বয়ানে উঠে আসে, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১৫৯ জন প্রার্থীর নাম পাঠিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ। ইডির বক্তব্য, নগদ লেনদেনের অসঙ্গতি থেকেই স্পষ্ট, মূল উৎস গোপন করতে ভুয়ো ব্যবসার ছদ্মবেশ ব্যবহার করা হয়েছে।