নিউজ পোল ব্যুরো: এসএসসি (SSC) দুর্নীতির বিচারপর্বে বড়সড় মোড়। আলিপুরের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে শুরু হওয়া ট্রায়ালে প্রথম দিনেই বিস্ফোরক দাবি করলেন এসএসসি-র (SSC) প্রাক্তন চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মণ্ডল। তার অভিযোগ, বেআইনি নিয়োগের জন্য সরাসরি রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছিল তা-ও আবার শাসকদলের শীর্ষ নেতাদের তরফে। তিনি নাম করে বলেন, মুকুল রায় (Mukul Roy) ও তৎকালীন শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এই অনিয়মে তাকে চাপ দিতেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর পরোক্ষ ভূমিকার কথাও এদিন আদালতে উঠে আসে।
আরও পড়ুন: Rahul Gandhi: ভোটার তালিকায় কারসাজি? রাহুলের আগুনে বার্তা, বিজেপির পাল্টা বিস্ফোরণ
২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এসএসসি-র (SSC) চেয়ারম্যান পদে থাকা চিত্তরঞ্জনবাবু এদিন আদালতে স্পষ্ট বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে আমাকে জানিয়েছিলেন যে আমাকে চেয়ারম্যান করা হচ্ছে।” সিবিআই আইনজীবীর প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, তাকে চার বছরের জন্য নিয়োগ করা হলেও, বেআইনি নিয়োগের চাপ সহ্য করতে না পেরে তিনি আগেভাগেই পদত্যাগ করেন।
সাক্ষ্যে তিনি আরও দাবি করেন, একাধিক মামলায় (RC3, RC4, RC5) যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি ইচ্ছাকৃতভাবে গুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে যেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, ২০২৫ সালে সেই পুরনো পদ্ধতি আবার ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তার মতে, ২০১২ সালের স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকেই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে থামিয়ে দেওয়া হয়। এই মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়, এসপি সিনহা ও সুবীরেশ ভট্টাচার্য-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ট্রায়াল চলছে। শুক্রবার সিবিআই মোট ৮ জন সাক্ষীর নাম আদালতে জমা দেয়। এদিন ভার্চুয়ালি হাজির ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, এই মামলা শুধু নিয়োগ দুর্নীতির নয় বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার নামে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও ধরা যেতে পারে। এই ট্রায়াল রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ‘প্যারালাল পাওয়ার’-এর দিকেও আঙুল তুলছে যেখানে নিয়োগ মানেই দলীয় আনুগত্যের মাপকাঠি।
