নিউজ পোল ব্যুরো: বিশ্বরাজনীতির মানচিত্রে এক নতুন মোড়, পাকিস্তান (Pakistan) ও সৌদি আরবের (Saudi Arabia) মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য। আর এই চুক্তিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক ঘোষণা, “প্রয়োজনে সৌদি আরবকে পাকিস্তান (Pakistan) পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রবেশাধিকার দেবে।” এমন মন্তব্য করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মঞ্চে আলোড়ন ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ।
আরও পড়ুন: Manipur: অস্থির মণিপুরে ফের রক্তক্ষয়, শান্তির আহ্বানের পরেও থামছে না সংঘর্ষ
এই চুক্তির পর পাকিস্তান (Pakistan) স্পষ্ট করেছে, দুই দেশের উপর যে কোনওরকম আক্রমণকে যৌথ আক্রমণ হিসেবে দেখা হবে। অর্থাৎ, একটি দেশের উপর হামলা হলে অন্য দেশ তা নিজের উপর হামলা বলে বিবেচনা করবে। এই চুক্তিকে ঘিরে বহু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞই মনে করছেন, এটি মূলত ইজরায়েলের বিরুদ্ধে একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য মুসলিম বিশ্বের মধ্যে ‘ইসলামিক ন্যাটো’ ধরনের প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা।
খোয়াজা আসিফ আরও বলেন, “আমাদের যা কিছু রয়েছে, তা আমাদের মুসলিম ভ্রাতৃত্বের সাথেও ভাগ করে নিতে প্রস্তুত।” এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে: পাকিস্তান কি সত্যিই তার পারমাণবিক অস্ত্র সৌদি আরবের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত? যদি হ্যাঁ, তবে সেটি আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির লঙ্ঘন নয় কি?
অন্যদিকে, ইজরায়েল (Israel) এখন কার্যত একাধিক মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি বা পরোক্ষ হামলা চালাচ্ছে প্যালেস্টাইন, ইরান, লেবানন, সিরিয়া, ইয়েমেন, এমনকি কাতার পর্যন্ত তার লক্ষ্যবস্তুতে। এই অবস্থায়, একটি পারমাণবিক শক্তিধর দেশ যদি আরেকটি বিতর্কিত অঞ্চলের সঙ্গে এভাবে নিজস্ব অস্ত্র ভাগ করে নেয়, তাহলে তা শুধু ইজরায়েলের জন্য নয়, ভারতের মত দেশগুলোর পক্ষেও হতে পারে একটি কৌশলগত হুমকি। ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের সুসম্পর্ক থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে পরমাণু প্রযুক্তি ভাগাভাগি সেই সম্পর্কে নতুন চাপের সম্ভাবনা তৈরি করছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
