নিউজ পোল ব্যুরো: শুক্রবার মুক্তি পেল শুভ্রজিৎ মিত্র পরিচালিত বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘দেবী চৌধুরানী’ (Devi Chowdhurani Film Review)। পুজোর আবহেই এই ছবিকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর উপন্যাস থেকে রূপালি পর্দায় আনা এই কাহিনি একদিকে ইতিহাস, অন্যদিকে নারীশক্তির মহাকাব্য। পরিচালক (Subhrajit Mitra) তার সাহসী ভিশনে কাহিনিকে নতুন আলোয় উপস্থাপন করেছেন।

সবচেয়ে আলোচিত চরিত্র ভবানীচরণ পাঠক যার ভূমিকায় প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় (Prosenjit Chatterjee)। তাকে এককথায় বলা যায় এ ছবির প্রাণ। অস্ত্রধারী সাধক, বিদ্রোহী, নারীশক্তির সাধক ভবানী পাঠক যেন প্রসেনজিতের অভিনয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। অনেকেই বলছেন, এটাই তার অভিনয় জীবনের শ্রেষ্ঠ চরিত্রায়ন। নারী নায়িকা প্রফুল্ল থেকে দেবী চৌধুরানী হয়ে ওঠার যাত্রায় শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় নজর কেড়েছেন। অভিনয় উজ্জ্বল করেছেন অর্জুন চক্রবর্তী, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী।
ছবির সিনেমাটোগ্রাফি অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়ের অনন্য কৃতিত্ব। প্রতিটি দৃশ্য যেন জীবন্ত ইতিহাস। সংগীত পরিচালক বিক্রম ঘোষের সুর ছবিকে দিয়েছে অতিরিক্ত মাত্রা। সব মিলিয়ে এই ছবিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিরাট সাংস্কৃতিক উদযাপন (Bengali cinema, Durga Puja 2025)। মূল গল্পে (Bankim Chandra Chattopadhyay) যেমন ছিল রোমান্টিকতা, পরিচালক সেখানে এনেছেন বাস্তবতার কঠোর ছাপ। বিশেষত ছবির শেষভাগে যে পরিবর্তন এনেছেন, তা দর্শকদের বিস্মিত করবে। কেউ সেটিকে দেখবেন শিল্পীর স্বাধীনতা হিসেবে, কেউ হয়তো নেবেন ধাক্কা বলে। তবে এটুকু স্পষ্ট নারীশক্তির বিপ্লবী উত্থান ও (women empowerment)–এর জ্বলন্ত প্রতীক হিসেবে দেবী চৌধুরানী আজও সমান প্রাসঙ্গিক।

১৭৭২ সালের বঙ্গদেশ, মুঘল সাম্রাজ্যের পতন, নতুন ব্রিটিশ শাসনের আগ্রাসন এই প্রেক্ষাপটে বঙ্কিমের লেখা কাহিনি আজও বাঙালির হৃদয়ে অনুরণিত। ১৮৮২ সালে শোভাবাজার রাজবাড়িতে পাদ্রি হেস্টির সঙ্গে বঙ্কিমের বিতর্ক থেকেই জন্ম নিয়েছিল এই অমর আখ্যান। সেই আখ্যান আজ ২০২৫-এও বাঙালির (Durga Puja celebration) শক্তিতে ধ্বনিত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
সবশেষে বলা যায় এই বছর পুজোর প্রধান আকর্ষণ কেবল প্রতিমা বা আলোকসজ্জা নয়, বরং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মরণে ‘দেবী চৌধুরানী’ সিনেমা। ইতিহাস, সাহিত্য আর সিনেমার এই মেলবন্ধন বাঙালির সাংস্কৃতিক ভুবনে এক নতুন অধ্যায় রচনা করল।
