নিউজ পোল ব্যুরো: মানুষের শরীরে ক্যানসার (Cancer) এক ভয়ঙ্কর মারণব্যাধি। এর সবচেয়ে বড় রহস্য হল, বাধার মুখে পড়েও ক্যানসারের কোষ (Tumor Cells) বারবার নতুন শক্তি সঞ্চয় করে, আবার মাথা তোলে এবং ছড়িয়ে পড়ে। বার্সেলোনার (Barcelona) সেন্টার ফর জেনোমিক রেগুলেশন (Center for Genomic Regulation – CRG) সম্প্রতি এক গবেষণায় এই রহস্যের কিছুটা উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, শারীরিক চাপ (Physical Stress) তৈরি হলেই ক্যানসার কোষ নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।
আরও পড়ুন:Ulaa Browser: ভারতীয় টেক জায়ান্ট জোহোর নতুন অস্ত্র, সরাসরি টক্কর Google Chrome-কে”
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল Nature Communications-এ। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর (Cancer Patients) বায়োপ্সি (Biopsy) নমুনা বিশ্লেষণ করে বোঝা গিয়েছে কোষ চাপে পড়লে ভেতরে মাইটোকনড্রিয়া (Mitochondria) দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে। জীবন্ত কোষে বিশেষ মাইক্রোস্কোপ (Microscope) দিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে কোষ তিন মাইক্রন পর্যন্ত ছোট হয়ে যায়— যা মানুষের একটি চুলের ব্যাসের প্রায় ৩০ ভাগের এক ভাগ। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মাইটোকনড্রিয়া সরে গিয়ে কোষের নিউক্লিয়াসের (Nucleus) পৃষ্ঠে ভিড় জমায় এবং প্রচুর পরিমাণে এটিপি (ATP – Adenosine Triphosphate) ক্ষরণ শুরু করে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বিজ্ঞানী সারা এসডেলসি বলেন, ‘‘মাইটোকনড্রিয়া কেবল ব্যাটারির মতো শক্তি জোগায় না, বরং জরুরি মুহূর্তে কোষ রক্ষা করার বিশেষ ভূমিকা নেয়।’’ গবেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়ায় মাইটোকনড্রিয়া নিউক্লিয়াসের চারপাশে একটি বলয় তৈরি করে, যাকে তাঁরা নাম দিয়েছেন ‘NAM’ (Nucleus Associated Mitochondria)। ক্যানসার কোষের প্রায় ৮৪ শতাংশেই এই বিশেষ গঠন দেখা গিয়েছে। এই সময়ে একটি ফ্লুরোসেন্ট সেন্সর (Fluorescent Sensor) ব্যবহার করে দেখা গিয়েছে, চাপের সময় অতিরিক্ত এটিপি নিউক্লিয়াসে প্রবেশ করলে সেন্সর আলোকিত হয়ে ওঠে। অর্থাৎ চাপের কারণে ডিএনএ (DNA) ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত তার মেরামতি হয় এই শক্তির সাহায্যে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এক ঘণ্টার মধ্যেই ক্যানসার কোষ ক্ষত সারিয়ে নিতে পারে।
১৭ জন ব্রেস্ট ক্যানসার (Breast Cancer) আক্রান্ত রোগীর টিউমরের বায়োপ্সি বিশ্লেষণ করেও একই ফলাফল পাওয়া যায়। গবেষক ঋতব্রত ঘোষ জানান, নিউক্লিয়াসের চারপাশে এন্ডোপ্লাসমিক রেটিকিউলাম (Endoplasmic Reticulum) ও প্রোটিন ফাইবার একটি জাল তৈরি করে NAM-কে ধরে রাখে। কিন্তু যখন ক্যানসার কোষে ‘Latrunculin A’ নামক এক রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয়, তখন দেখা যায় এই গঠন ভেঙে পড়ছে এবং এটিপি উৎপাদন থেমে যাচ্ছে।বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসা (Cancer Treatment) এবং থেরাপি (Therapy) উন্নয়নের জন্য নতুন দিক খুলে দিতে পারে। কারণ এবার বোঝা গেল, ক্যানসারের কোষ বাধার মুখে পড়লেও কীভাবে নতুন শক্তি তৈরি করে আবার শরীরে জাঁকিয়ে বসতে সক্ষম হয়।
