Violence at Tripura : ত্রিপুরার ভাঙচুর ঘিরে চাপানউতর।

সম্পাদকীয়

সংবিধানগত নিয়ম অনুসারে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল ও গোষ্ঠীর দায় দায়িত্ব সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করা। কিন্তু ভারতের কেন্দ্র থেকে রাজ্য- কারোর সেই দায়বোধ আছে কিনা বোঝা মুস্কিল হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের কাছে।(Violence at Tripura)যারা আপাত শান্তিপ্রিয়। কিন্তু যখন প্রশ্ন ওঠে ধ্বংস কি শান্তি, আমাদের বেছে নিতে হয় না কো ভ্রান্তি। আমরা জবাব দিই শান্তি,শান্তি,শান্তি। কিন্তু সে কথা না শোনে নাগরাকাটার মানুষ, না বোঝে ত্রিপুরার বিজেপি কর্মীরা। ফলে নির্বাচনের বহু আগে থেকেই এই রাজ্যের মারের বদলা নিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরার বিজেপি কর্মীরা। প্রতিবাদের ভাষা উঠে আসছে , বাংলা থেকে পাঁচ সদস্য আজ ত্রিপুরা যাচ্ছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেছেন যে ত্রিপুরায় খুন হচ্ছে গণতন্ত্র। বস্তুত, পুলিশের উপস্থিতিতে যেভাবে বিজেপি কর্মীরা মমতা- অভিষেকের ভিনাইল বোর্ড ভেঙ্গেছে, পার্টি অফিসে হামলা চালিয়েছে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। নিন্দনীয় বাংলার ঘটনাও।

[আরও পড়ুন]  http://ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে রাজনীতির তামাশা
ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক পার্টি অফিস ভাঙচুরকে (Violence at Tripura)কেন্দ্র করে রাজনৈতিক হিংসা ফের শিরোনামে এসেছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতিপথে বারবার আঘাত আসছে – যার রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক জটিলতা গভীর। ত্রিপুরা ও বাংলার ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতসম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দফতরে হামলার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। বলা হয়েছে, উত্তরবঙ্গের বিজেপি সাংসদ ও বিধায়কদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিজেপি কর্মীরা আগরতলায় তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় কিছু অংশ তাদের পার্টি অফিসে ভাঙচুর চালায়, তৃণমূলের পতাকা ও পোস্টার ছিঁড়ে দেয়। তৃণমূলের দাবি, এই অনধিকার চর্চার মধ্য দিয়ে বিজেপি গণতন্ত্রের ভিত নষ্ট করতে চাইছে, বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে । এমনকি, পুলিশের সামনেই ঘটনা ঘটে গেলেও রোধ করা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে । এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও বিরোধী দলের পার্টি অফিসে হামলা, পোস্টার ছেঁড়া, ভাঙচুরের অভিযোগ বহুবার উঠে এসেছে। দুটি রাজ্যেই এই ধরণের হামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ – ক্ষমতার দম্ভ এবং বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করার চেষ্টা বিভাজন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে ।রাজনৈতিক হিংসার নৈতিক পটভূমি বাংলা ও ত্রিপুরায় রাজনৈতিক শিবিরগুলির মধ্যে এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কার্যত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অসহায়তা তুলে ধরেছে। যখন শাসকদল হোক বা বিরোধী, কোন পক্ষই পর্যালোচনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে মর্যাদা না দিলে, পার্টি অফিতে ভাঙচুর হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতার ভাষা। প্রত্যুত্তরে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে ‘সত্য’-র চাদরে ঢাকলেও, আসলে গণতন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হয় ।
ত্রিপুরা ও বাংলার (Violence at Tripura) সাম্প্রতিক ঘটনাগুলি নতুন কিছু নয়, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হিংসা ও প্রতিশোধের প্রবণতা বেড়েই চলেছে। পুলিশের নির্লিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি এবং সরকারের পক্ষপাতিত্ব রাজ্যবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলছে। রাজনৈতিক দলগুলির ছোট ছোট কর্মী বা সাধারণ জনগণ বারবার এই প্রতিহিংসার বলি হচ্ছে – দল বদলের খেলাতে, নীতিহীন ক্ষমতার কুনাট্যে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারেই রয়ে যাচ্ছে। নিত্যদিনের এই ‘পার্টি অফিস ভাঙচুর’ কেন খবরের শিরোনাম হবে, সেই প্রশ্নেও বারবার ফিরে আসে রাজনৈতিক মূল্যবোধের দুর্ভিক্ষ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, নির্বাচন শেষে কেউ জয়ী, কেউ পরাজিত হবে, কিন্তু গণতন্ত্র হারিয়ে গেলে হারবে আমজনতাই। রাজনীতির নামে বেআইনি হিংসা ও পার্টি অফিসে ভাঙচুর কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচায়ক নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য তা ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত। এই জটিল সময়, ফের সুবুদ্ধি ও সহিষ্ণুতার আহবান জানায়।