সারা দেশে যে রাজনৈতিক ইস্যুটি এখন তুমুল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু, সেই SIR প্রসঙ্গে এই রাজ্যের বিজেপি নেতাদের উৎসাহ যেন অন্য সব প্রদেশকে ছাড়িয়ে গেছে। জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যে আবেগ, সমর্থন বা প্রচারের স্রোত জেগে উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গে তার ধারা আরও তীব্র বলে মনে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে—এই বাড়তি উৎসাহের পেছনে আসল কারণ কী?
প্রথমত, বাংলায় বিজেপি এখনও জনমত ও ক্ষমতার লড়াইয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তাই যে কোনও জাতীয় ইস্যুতে নিজস্ব উপস্থিতি ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ তাদের বেশি। SIR-এর মতো আলোচিত ঘটনাকে তারা একাধিকভাবে ব্যবহার করতে চাইছে—একদিকে নিজেদের জাতীয় আনুগত্য প্রদর্শন, অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে তা পরোক্ষ অস্ত্র করে তোলার কৌশল।
[আরও পড়ুন] http://ত্রিপুরার ভাঙচুর ঘিরে চাপানউতর।
দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে প্রতীকী ভাষা ও সাংস্কৃতিক আবেগকে কার্যকরী হাতিয়ার হিসেবে বাঁধা দেয়ার প্রবণতা পুরনো।SIR যদি কোনও জাতীয় নিরাপত্তা, সম্মান বা কৌশলগত সাফল্যের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তাহলে তার চারপাশে আবেগ তৈরির সুযোগ বিজেপি নেতারা হাতছাড়া করতে চাইবেন না। নিজেদের কর্মীদের উদ্দীপনা বাড়াতে এবং জনসাধারণের মধ্যে আলোচনার ঝড় তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তৃতীয়ত, এই উৎসাহের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক গণিতও কাজ করছে। জাতীয় ইস্যুতে যত বেশি সরব হওয়া যাবে, ততই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চোখে প্রভাবশালী থাকার সম্ভাবনা বাড়বে। একইসঙ্গে, রাজ্যের সাধারণ ভোটাররা মনে রাখতে পারবেন—বিজেপি শুধু স্থানীয় সমস্যায় নয়, দেশের বড় বড় প্রশ্নেও সক্রিয়। তবে এর মধ্যে ঝুঁকিও কম নয়। যদি SIR-এর চারপাশে অতিরিক্ত রাজনৈতিক নাটক তৈরি হয় অথচ বাস্তব কাজের ফলাফল শূন্যে থাকে, তাহলে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। মানুষের প্রত্যাশা এখন শুধু ভাষণ ও প্রতীকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই—তারা দেখতে চান প্রকৃত সমাধান ও উন্নয়ন।সুতরাং, উৎসাহের সঙ্গে দায়িত্বও জরুরি। জাতীয় আলোচনায় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বকে মনে রাখতে হবে—রাজ্যের বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করাই দীর্ঘমেয়াদি জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি। নইলে SIR নিয়ে যতই আবেগ তৈরি হোক, শেষপর্যন্ত তা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়বে রাজনৈতিক শোরগোলের মধ্যে। এই অতিরিক্ত নির্ভরতা শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে গেলে ফের তলিয়ে যাবে বিজেপির জয়ডঙ্কা। এই রাজ্যে।
