নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতায় হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন এক ইতিহাস রচনা করল বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (BM Birla Heart Hospital)। পূর্ব ভারতে এই প্রথম কোনও রোগীর শরীরে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হল ডুয়াল চেম্বার লিডলেস পেসমেকার (Dual Chamber Leadless Pacemaker)। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ দেশের কার্ডিয়াক চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত খুলে দিল। গতকাল এই অনন্য অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেন হাসপাতালের কার্ডিওলজি ডাঃ অনিল মিশ্র (Anil Mishra)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সাধারণত হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সিস্টেমে সমস্যা বা ব্র্যাডিকার্ডিয়া (Bradycardia) দেখা দিলে পেসমেকার (Pacemaker) ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই নতুন ডিভাইসটি আকারে পেনসিলের চেয়েও ছোট। এর সবচেয়ে বড় সুবিধা— রোগীর শরীরে কোনওরকম কাটাছেঁড়া বা পকেট তৈরি না করেই এটি প্রতিস্থাপন (Implantation) সম্ভব। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি প্রায় শূন্য এবং মাত্র ২৫-৪০ মিনিটের মধ্যেই ডিভাইস স্থাপন করে রোগীকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পূর্বভারতের (Eastern India) ইতিহাসে এই প্রথম এই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার সফলভাবে সম্পন্ন হল। পেসমেকার প্রতিস্থাপনের পর রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল এবং পরের দিন থেকেই তিনি হাঁটাচলা করতে সক্ষম। এই সাফল্যকে সামনে রেখে হাসপাতালের সপ্তম তলায় আয়োজিত হয় বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন (Press Conference)। অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ছিল— “First Ever Dual Chamber Leadless Pacemaker Implantation in Eastern India”। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ডাঃ অনিল মিশ্র।
আরও পড়ুন:Alipurduar: হলং নদীর ভাঙা সেতুতে বিপর্যস্ত জলদাপাড়া, দড়ি ধরে চলছে পারাপার
সেখানে সরাসরি প্রদর্শন করা হয় AVEIR DR লিডলেস পেসিং (Leadless Pacing) প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন কীভাবে এই নতুন প্রযুক্তি ভারতের কার্ডিয়াক চিকিৎসার ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।ডাঃ মিশ্র বলেন, “এই ডুয়াল চেম্বার লিডলেস পেসমেকার ইস্টার্ন ইন্ডিয়াতে প্রথমবার ইমপ্লান্ট করা হল। ডিভাইসটি শরীরে স্থাপন করা খুবই সহজ, কোনও পকেট বা কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয় না। রোগী পরের দিন থেকেই দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন।” এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেডস্টার হার্ট অ্যান্ড ভাস্কুলার ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক অ্যারিথমিয়ার অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর ডাঃ সাইরাস আদেল হাদাদি। এই সাফল্যের মাধ্যমে বিএম বিড়লা হার্ট হসপিটাল (BM Birla Heart Research Centre) আবারও প্রমাণ করল যে, আধুনিক কার্ডিয়াক চিকিৎসার ক্ষেত্রে তারা দেশের অন্যতম পথিকৃৎ (Pioneer) প্রতিষ্ঠান। এই উদ্যোগ শুধু কলকাতা নয়, গোটা পূর্ব ভারতের হৃদরোগ চিকিৎসায় বড় পরিবর্তনের সূচনা করল।
