নিউজ পোল ব্যুরো: পাট, সুতো, কড়ি বা পোড়ামাটির গয়না এখন শুধু গ্রামের মেলাতেই নয়, শহুরে ফ্যাশন ট্রেন্ডেও দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এককালের গৃহস্থালির অবসরে শখের কাজ, আজ তা হয়ে উঠেছে জীবিকার অন্যতম বড় ভরসা। কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ এলাকার বড়কুলগাছি ও ছোটকুলগাছি গ্রামের মহিলারা দল বেঁধে আজ হ্যান্ডমেড জুয়েলারি (Handmade Jewelry), অক্সিডাইস জুয়েলারি (Oxidised Jewelry) ও ইকো-ফ্রেন্ডলি জুয়েলারি (Eco-friendly Jewelry) তৈরি করে সারা দেশে বিক্রি করছেন।
আরও পড়ুন:Youth League Rules : যুব লিগে বড় চমক! দেখা যেতে পারে ভারতীয়-বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের
ভাগীরথীর তীরবর্তী এই দুই গ্রামে এখন গড়ে উঠেছে মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠী। তারা নিজেরাই ডিজাইন করে গয়না তৈরি করেন— হার, কানের দুল, বালা থেকে শুরু করে নুপূর পর্যন্ত। পাট (Jute), সুতো (Thread), কড়ি (Shell), গামছা (Gamchha), পোড়ামাটি (Terracotta)—এই সব দেশি উপকরণ দিয়েই তৈরি হচ্ছে রঙিন ও নকশাদার গয়না। শুধু তাই নয়, দুর্গামূর্তি (Durga), গণেশ (Ganesha), ত্রিশূল (Trishul), লক্ষ্মী (Lakshmi) ও সরস্বতীর (Saraswati) মুখাবয়বও গয়নার থিমে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে।

সোনার গয়নার দাম (Gold Price) এখন আকাশছোঁয়া— প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ভরি। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলাদের কাছে সোনার গয়না অনেক সময় নাগালের বাইরে। সেই কারণেই ফ্যাশন সচেতন অনেকেই হ্যান্ডমেড বা অক্সিডাইস গয়নার দিকে ঝুঁকছেন। সুলভ দাম, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন আর দেশজ ছোঁয়া—এই তিনের মেলবন্ধনেই ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই শিল্প।
গ্রামের মহিলারা সকালে সংসারের কাজ সামলে অবসর সময়ে বসে গয়না তৈরি করেন। বড়কুলগাছির বৈশাখী মাঝি, টুকি মাঝি ও সান্ত্বনা মাঝিরা জানিয়েছেন, তাদের স্বামীরা কেউ মাঠে দিনমজুরের কাজ করেন, কেউ আবার ইটভাটায় শ্রমিক। তারা নিজেরা প্রশিক্ষণ (Training) নিয়ে এই কাজ শুরু করেছেন। বৈশাখী মাঝির কথায়, “আগে সংসারে টানাটানি ছিল। এখন মাসে পাঁচ থেকে পনেরো হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জন হয়। এতে সংসারে স্বচ্ছলতা এসেছে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই গয়না এখন শুধু স্থানীয় বাজারে নয়, অনলাইন (Online Marketplace) ও মেলাতেও বিক্রি হচ্ছে। লখনউ, মুম্বই, রাজস্থান, দিল্লি, কেরল— দেশজুড়ে যাচ্ছে এই গয়না। উন্নতি মাঝি ও সন্তোষী মাঝিরা জানান, “অনলাইনে অর্ডার (Order) আসছে নিয়মিত। এছাড়াও উৎসবের মরশুমে নিজেরাই মেলায় পসরা সাজিয়ে বিক্রি করি।” এই উদ্যোগ এখন অনেক মহিলার জন্য আর্থিক স্বাধীনতার (Financial Independence) প্রতীক হয়ে উঠেছে। গ্রামের ঘরের ‘লক্ষ্মী’রাই আজ নিজের হাতে গড়ছেন নতুন পথ।
