নিউজ পোল ব্যুরো:“সঠিক মানুষেরা বিজেপি করে না!”— এমন এক মন্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক এখন বনগাঁ থেকে রাজ্য রাজনীতির আঙিনায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বিকাশ ঘোষের একটি ভিডিও (Bikash Ghosh viral video)। যেখানে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে— “সঠিক মানুষেরা কেউ বিজেপি করে না। যেসব অযোগ্য মানুষ আছে, তারাই বিজেপি করে, তারাই প্রধান হয়ে যায়।”
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/10/26/chetlah-brutal-murder-2-arrested-police-investigation/
এই মন্তব্য সামনে আসতেই ক্ষোভে ফুঁসছে রাজ্য বিজেপির একাংশ। তৃণমূল কংগ্রেসও কটাক্ষের সুযোগ ছাড়েনি। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, পালটা অভিযোগ, আর আক্রমণ–প্রতিআক্রমণের নতুন অধ্যায়।
তৃণমূলের বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন,-“বিজেপির জেলা সভাপতি স্বীকার করেছেন তাঁদের দলে যোগ্য মানুষ নেই। যারা এখন নেতৃত্বে বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আছেন, তাঁরা রাজনৈতিকভাবে অশিক্ষিত ও অযোগ্য। এই মন্তব্যে বিজেপির প্রকৃত মুখটাই সামনে এসেছে।”
তবে বিকাশ ঘোষ (Bikash Ghosh viral video) নিজে অভিযোগ তুলেছেন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের। তাঁর দাবি, ভিডিওটি নকল এবং বিকৃত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই প্রসঙ্গে বিকাশবাবুর মন্তব্য,-“আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করছে তৃণমূল। এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমার বক্তব্য বিকৃত করে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। আমার মুখে এমন কথা বসানো হয়েছে যা আমি বলিনি। বিজেপি নেতাদের সম্মানহানি করতেই এই কাজ করা হয়েছে!”
বিজেপি সূত্রের দাবি, আসলে এই ভিডিওর মাধ্যমে শাসক শিবির বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। ভোটের আগে সংগঠনের ভিত দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের প্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের বক্তব্য, বিজেপির অন্দরেই এখন হতাশা ও বিভাজন। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের দূরত্ব বেড়েছে। সেই কারণেই এই ধরনের মন্তব্য ক্রমশ প্রকাশ্যে আসছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের উত্তাপ ক্রমেই চড়ছে। প্রতিদিনই কোনও না কোনও ইস্যুতে মুখোমুখি হচ্ছে দুই শিবির। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বনগাঁর রাজনীতিতে নেমে এসেছে নতুন ঝড়।
একইসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, বিকাশ ঘোষের ভিডিওটি সত্যি হোক বা বিকৃত— এই বিতর্ক বিজেপির ভাবমূর্তিতে যে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে, তা অস্বীকার করা যাচ্ছে না। ভোটের মুখে এই ভিডিওই হতে পারে বিরোধীদের হাতে বড় অস্ত্র।
