নিউজ পোল ব্যুরো: ক্যানসারের সঙ্গে চার বছরের অসম লড়াই শেষে নবজীবন পেয়েও থেমে থাকেনি উত্তরের ২৪ পরগনার নিমতার অদ্রিজা গণ। ষষ্ঠ শ্রেণির পরেই টি-সেল লিম্ফোমার কোপ নেমেছিল তার উপর, শুরু হয়েছিল কঠোর চিকিৎসা, একের পর এক কেমোথেরাপি, মুম্বই-কলকাতা দৌড়। সেই অদম্য পথ পেরিয়ে এ বার উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম পর্বের examination ৯৭.৩৭ শতাংশ নম্বর নিয়ে নবম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে অদ্রিজা (higher secondary Merit List)। নিজের নাম মেধাতালিকায় শুনে খুশি হলেও আনন্দে ভেসে না গিয়ে আরও পড়ার দিকে মন দিচ্ছে সে, সামনে তো আরও পরীক্ষা।
ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার কিছুদিন পরই ক্যানসার ধরা পড়েছিল অদ্রিজার (higher secondary Merit List)। চিকিৎসার ধাক্কায় ভেঙে পড়েছিলেন ঠাকুমা, দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন বাবা জয়মঙ্গল গণ। তখনই দৃঢ় হাতে হাল ধরেন মা জ্যোতি গণ। মেয়েকে একা নিয়ে মুম্বই গিয়ে চিকিৎসা করান, ৮২টি কেমো পেরিয়ে মেয়েকে সুস্থ করে তোলেন। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, বন্ধুদের মনোবল আর নিয়মিত থেরাপি অদ্রিজার (higher secondary Merit List) সুস্থতার যাত্রাকে সহজ করে দিয়েছিল। ২০২১ সালে পুরোপুরি রোগমুক্ত হয় সে, যদিও এখনও বছরে একবার মুম্বইয়ে পরীক্ষা করাতে যেতে হয়।
মেয়ের সাফল্যে আপ্লুত মা জ্যোতি বলেন, কখনও পড়াশোনার জন্য জোর করেননি, অদ্রিজা (higher secondary Merit List) নিজেই নিজের তাগিদে এগিয়েছে। দিদি সৃজা প্রস্তুতি নিচ্ছেন সিএসআইআর-ইউজিসি নেট-এর, তিনিও বোনের এই সাফল্যে আনন্দিত। স্কুলের অ্যাসিস্ট্যান্ট টিচার নির্বাণপ্রাণা মাতাজির কথায়, ছোট বয়সেই নিজের লড়াই বোঝে এই মেয়ে। বাঁচার স্পৃহা আর প্রার্থনাসঙ্গীতের শক্তিতে সে নিজের পথ তৈরি করেছে।
রাত জাগা নিষেধ থাকায় স্কুলের পড়াই ছিল ভরসা, বাড়িতে সামান্য চোখ বুলিয়ে নিত অদ্রিজা (higher secondary Merit List)। বাংলা সাহিত্য তার প্রিয়, শরৎচন্দ্র থেকে অর্পিতা সরকার— সবার বইই পড়ে। সুরলহরীতেও তার টান, পছন্দ শ্রেয়া ঘোষাল এবং অরিজিৎ সিংহ। ভবিষ্যতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি নিয়ে পড়তে চায় সে। মানুষের মানসিক সমস্যার সমাধান করে পাশে দাঁড়ানোই অদ্রিজার লক্ষ্য, নিজের জীবনের লড়াই তাকে শিখিয়েছে সহমর্মিতা, ধৈর্য আর অন্যের কষ্ট সত্যি করে শোনার ক্ষমতা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
