Delhi cloud seeding:‘ক্লাউড সিডিং’-এর নামে কেলেঙ্কারি! কোটি টাকার অপচয়ে তোপে দিল্লির ডবল ইঞ্জিন সরকার

রাজনীতি

নিউজ পোল ব্যুরো:দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টির নামে কোটি টাকার অপচয়ের অভিযোগ ঘিরে তীব্র বিতর্ক। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কেন্দ্রীয় সরকারের সতর্কবার্তা—সব উপেক্ষা করেই চালু হয়েছিল রাজধানীর বহুল আলোচিত ‘ক্লাউড সিডিং’ প্রকল্প। এখন সেই প্রকল্পকেই ঘিরে উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, করদাতাদের ৩৪ কোটি টাকা কার্যত জলে ফেলে দিয়েছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার।

আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/02/shamik-bhattacharya-2026-bengal-election-tmc-removal-statement/

রাজধানীতে শীতকাল মানেই দূষণের দাপট। প্রতি বছরই অক্টোবর–নভেম্বর মাসে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তরপ্রদেশে খেত পোড়ানোর ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে দিল্লির আকাশ। ২০২৩ সালে এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় দিল্লির তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ‘কৃত্রিম বৃষ্টি’ বা ক্লাউড সিডিংয়ের উদ্যোগ নেন। উদ্দেশ্য ছিল, কৃত্রিমভাবে বৃষ্টির সৃষ্টি করে বায়ুদূষণ কিছুটা হলেও কমানো।

কিন্তু শুরু থেকেই আপত্তি তুলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকও স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, দিল্লির শীতকালীন আবহাওয়া কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য উপযুক্ত নয়। ২০২৪ সালের শীতকালীন অধিবেশনে রাজ্যসভায় এক লিখিত জবাবে কেন্দ্র জানায়—নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বায়ুমণ্ডলের মেঘে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ও ঘনত্ব থাকে না। ফলে রাসায়নিক প্রয়োগ করলেও জলকণা মাটিতে নামার আগেই শুকিয়ে যায়। তাই এই সময়ে ক্লাউড সিডিং কার্যত ‘বৈজ্ঞানিকভাবে অকার্যকর’।

কিন্তু সেই বৈজ্ঞানিক মত উপেক্ষা করেই প্রকল্পটি চালু হয়। ব্যয় হয় প্রায় ৩৪ কোটি টাকা। এখন সেই বিপুল অর্থব্যয় ঘিরেই উঠছে দুর্নীতির অভিযোগ। আইআইটি কানপুরের এক বিশেষজ্ঞও বলেছেন, “দিল্লির শীতের আবহাওয়ায় কৃত্রিম বৃষ্টি সম্ভব নয়। এটি ছিল একেবারে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যর্থ ধারণা।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT

বিরোধী দলগুলির দাবি, এটি ‘ক্লিন এয়ার’ প্রকল্প নয়, বরং ‘ক্লিন মানি’ প্রকল্প। কেন্দ্রের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও কেন এই বিপুল অর্থ খরচ করা হল, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো দেয়নি দিল্লি প্রশাসন।

আম আদমি পার্টির মুখপাত্রের অভিযোগ, “কেন্দ্রের নেতৃত্বাধীন ডবল ইঞ্জিন সরকার দিল্লির জনগণের অর্থ অপচয় করেছে। বৈজ্ঞানিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রকল্পটি চালু করা মানে স্পষ্ট দুর্নীতি।” অন্যদিকে বিজেপির দাবি, “কেজরিওয়াল সরকার নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই কৃত্রিম বৃষ্টির নাটক করেছিল।”0

রাজধানীর বায়ুদূষণ মোকাবিলায় যেখানে প্রয়োজন ছিল বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, সেখানে কোটি টাকার কৃত্রিম বৃষ্টি এখন দিল্লির রাজনীতিতে নতুন ঝড় তুলেছে।প্রশ্ন একটাই—‘এটা কি সত্যিই কৃত্রিম বৃষ্টি, নাকি কৃত্রিম দুর্নীতি?’