নিউজ পোল ব্যুরো: কখনও কুয়াশায় ঢাকা, কখনও নীল আকাশের (Blue Sky) হাতছানি। সেই নীল আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুপ্রাচীন ব্রিটিশ বাংলো (British Bungalow)। বাংলোর ডাইনিং রুম থেকেই দেখা যায় মহিমান্বিত কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga View)। চারপাশে ঘন জঙ্গল, গাছে গাছে স্কারলেট মিনিভেট, রুফারস সিবিয়া, হিমালয়ান বুলবুল (Himalayan Bulbul), সানবার্ড তাদের কলতানে মুখরিত গোটা পাহাড়। ভাগ্য ভালো থাকলে জায়েন্ট স্কুইরেলকেও (Giant Squirrel) দেখা যেতে পারে। দার্জিলিং (Darjeeling) থেকে মাত্র ২১ কিলোমিটার দূরে এই অনাবিল শান্তির ঠিকানা মিম চা বাগান (Mim Tea Garden)। যেখানে এখনো ভিড়ভাট্টার আক্রমণ ঘটেনি। সবুজ চায়ের গাছের ঢেউ যেন মখমলি চাদরের মতো ঢেকে রেখেছে পাহাড়ের বুক। পাইন (Pine), দেওদার (Deodar) আর সাইপ্রাসের (Cypress) সুউচ্চ ছায়ায় ঝিমিয়ে আছে এই পাহাড়ি বাগান। হালকা হিমেল হাওয়ার পরশে যখন মেঘ সরে যায়, তখন বাংলোর বারান্দায় দাঁড়ালে চোখের সামনে খুলে যায় ১৮০ ডিগ্রি জুড়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার হাসিমুখ। চারদিকে গুনগুন করে কাজ করছেন চা শ্রমিকেরা (Tea Workers), তাদের গানের কলি মিশে যাচ্ছে পাহাড়ি নীরবতায়।
এই চা বাগানের প্রান্তে রয়েছে প্রায় ১৮৫ বছরের পুরোনো হেরিটেজ বাংলো (Heritage Bungalow)। সাদা দেওয়াল, সবুজ ছাদ আর সাহেবি স্থাপত্যের (Colonial Architecture) ছোঁয়া। ব্রিটিশ টি প্রান্টার অ্যান্ড্রু ইউল (Andrew Yule) এই বাংলো ও বাগান তৈরি করেছিলেন। কথিত আছে, তাঁর স্ত্রীই বাংলোর দেখভাল করতেন। সেই ‘মেমসাহেব’-এর নামেই জায়গাটির নাম হয় ‘মিম’। এখানে কোনো ভৌতিক গল্প নেই, আছে শুধুই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য (Nature Beauty) আর পাহাড়ি শান্তির (Mountain Serenity) মায়া। বাংলোর অন্দরসজ্জা রাজকীয়। ফায়ারপ্লেসসহ (Fireplace) ডাইনিং রুমে রয়েছে বইয়ের সংগ্রহ আর জানলার বাইরে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য। সোনাদা (Sonada) পেরিয়ে ঘুম (Ghoom) থেকে বাঁদিকে সুখিয়াপোখরি (Sukhiapokhri) যাওয়ার রাস্তা ধরে এগোলে মিম বস্তির মোড় পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরোলেই পৌঁছে যাবেন মিম চা বাগানে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সকালে এক কাপ ফার্স্ট ফ্ল্যাশ চা (First Flush Tea) খেয়ে বেরিয়ে পড়ুন ইউল চা বাগান (Yule Tea Estate) দেখতে। কাছে রয়েছে রঙ্গিত নদী (Rangeet River), ছোট্ট গোম্ফা (Monastery), ইন্দো-নেপাল সীমান্তের পশুপতি মার্কেট (Pashupati Market), মানেভঞ্জন (Manebhanjan) ও চিত্রে (Chitre)। চাইলে মিমের ফ্যাক্টরি (Tea Factory) ঘুরে স্থানীয় চাও সংগ্রহ করতে পারেন। যেভাবে যাবেন— নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে গাড়িতে ঘুমের রাস্তা ধরে সুখিয়াপোখরির পথে এগোলেই মিম চা বাগান। থাকার জন্য উপযুক্ত হেরিটেজ বাংলো বা ইউল টি রিট্রিট (Yule Tea Retreat)। এ যেন সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রকৃতির কোলে এক মায়াবী নির্জন স্বর্গ।
