নিউজ পোল ব্যুরো:বিহারের নির্বাচনী রাজনীতি ফের উত্তেজনায় টগবগ করছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi Katta Sarkar remark) কটাক্ষ— “বিহার আর কাট্টা সরকার চায় না”, আর তারই পাল্টা জবাবে লালু প্রসাদ যাদবের রসিক মন্তব্য— “তাওয়ার রুটি উল্টে না দিলে পুড়ে যায়, এবার বিহারের মানুষ রুটি উল্টে দেবে!” এই কথার লড়াই এখন রাজ্য জুড়ে ভোটের রঙ গাঢ় করছে।
শনিবার সীতামারিতে জনসভায় মোদী (Narendra Modi Katta Sarkar remark) বলেন, “বিহারের মানুষ আর কাট্টা সরকার চায় না। প্রথম দফার ভোটেই বিরোধীদের ঘুম উড়ে গেছে।” তিনি লালু–রাবড়ির আমলকে ‘জঙ্গলরাজ’ বলে কটাক্ষ করে দাবি করেন, “এনডিএ-ই পারে বিহারকে উন্নয়নের পথে রাখাতে।”
উল্লেখ্য, ‘কাট্টা’ মানে দেশি বন্দুক— বিহারের মুঙ্গের ও আশপাশের গঙ্গার চরাঞ্চল বহুদিন ধরেই এই অস্ত্র তৈরির জন্য পরিচিত। সেই প্রতীক টেনেই মোদী বলেন, “লালু–রাবড়ির যুগ মানেই ছিল কাট্টা, কুশাসন আর দুর্নীতি।” বিজেপি শিবিরের বক্তব্য— মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেওয়াই এখন মোদীর প্রধান কৌশল, যেন তারা ফের সেই “অন্ধকার যুগে” না ফিরে যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
অন্যদিকে, লালু প্রসাদ যাদবও ভিডিও বার্তায় পাল্টা বলেন, “তাওয়ার রুটি উল্টে না দিলে পুড়ে যায়, এবার বিহারের মানুষ উল্টে দেবে। বদলের সময় এসেছে।” তাঁর মন্তব্যে উঠে এসেছে জনগণের অসন্তোষ ও পরিবর্তনের বার্তা। তেজস্বী যাদবও বলেন, “মোদীজী প্রতি নির্বাচনে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন, এবার বিহারবাসী আর ভুল করবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর ‘কাট্টা’ প্রতীক বোঝায় কুশাসনের সতর্কতা, আর লালুর ‘রুটি’ প্রতীক— পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি। একদিকে মোদী উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছেন, অন্যদিকে আরজেডি তুলে ধরছে বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষকদের সংকটের কথা।
বিহারে দ্বিতীয় দফার ভোট ১১ নভেম্বর, ফলাফল ঘোষণা ১৪ নভেম্বর। এখন বিহারের ভোটবাক্সে প্রশ্ন একটাই— গঙ্গাপারের মানুষ মোদীর ‘কাট্টা সরকার’কে প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নের পথে হাঁটবে, না কি লালুর ‘রুটি উল্টে দেওয়া’ বার্তায় বিশ্বাস রেখে নতুন অধ্যায় শুরু করবে?
যে দিকেই হোক ফল, এই নির্বাচনী মরসুমে ভাষার যুদ্ধে যে বিহার ফের একবার জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে— তাতে আর সন্দেহ নেই।
