নিউজ পোল ব্যুরো: শিশুরা দিনভর খেলে, হেসে, গল্প করে বাড়িকে সরগরম রাখবে এইটাই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন। কিন্তু কখনও দেখা যায়, সন্তান হঠাৎ ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, আগের মতো চনমনে নেই, খেতে চাইছে না। অনেক সময় বাবা-মা মনে করেন, এটা বোধহয় সাময়িক বা দুষ্টুমি। কিন্তু দিল্লির পুষ্টিবিদ (nutritionist) লভনীত বাত্রা বলছেন, এই ধরনের পরিবর্তনের পেছনে থাকতে পারে পুষ্টির ঘাটতি (nutritional deficiency)। তিনি জানাচ্ছেন, জ্বর বা বড় কোনও অসুস্থতার লক্ষণ না থাকলেও, শিশুর শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন (vitamins) ও খনিজের (minerals) ঘাটতি দেখা দিলে ক্লান্তি, খাওয়ায় অনীহা, এমনকি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা (immunity) কমে যেতে পারে। শিশুদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি (balanced diet) না পেলে, তা ভবিষ্যতের স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন : Lord Venkateswara : বেঙ্গালুরুর বিয়েতে স্বরূপে হাজির ভগবান! নবদম্পতিকে আশীর্বাদ দিতে ভিডিও ভাইরাল
তার মতে, শিশুর খিদে কমে যাওয়া ও ক্লান্তি (fatigue)—এই দুটি বিষয় আয়রনের (iron) ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। আয়রন শরীরে অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে এবং রক্তের (hemoglobin) একটি অপরিহার্য উপাদান। তাই শিশুর খাবারে থাকা উচিত রাগি, পালং শাক, বাদাম, ডাল, ডিম ও মাংস। এই খাদ্যগুলো শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ করে এবং শক্তি বাড়ায়। যদি দেখা যায় সন্তান বারবার ঠান্ডা লাগছে বা সামান্য আবহাওয়ার পরিবর্তনেই অসুস্থ হয়ে পড়ছে, তা হতে পারে জিঙ্কের (zinc) অভাবের ইঙ্গিত। জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষত সারানো এবং কোষের বৃদ্ধি বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই শিশুর ডায়েটে রাখা যেতে পারে কুমড়োর বীজ (pumpkin seeds), কাবলি ছোলা (chickpeas) ও বাদাম।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে, অসুখ সেরে যাওয়ার পরও যদি শিশু দুর্বল থাকে বা আগের মতো শক্তি ফিরে না পায়, তা হতে পারে সেলেনিয়ামের (selenium) ঘাটতির ফল। এই উপাদান শরীরকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে (recovery), ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে (skin glow) ও শক্তি জোগাতে (energy production) সাহায্য করে। আখরোট, ডিম এবং সাদা তিল শিশুর প্রতিদিনের খাবারে রাখলে সেলেনিয়ামের চাহিদা পূরণ হবে। পুষ্টিবিদের কথায়, অনেক সময় ছোট ছোট পুষ্টিগত ফাঁকই (micro-nutrient gaps) ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হয়। তাই সন্তান ক্লান্ত, খাওয়ায় আগ্রহী নয় বা বারবার অসুস্থ হলে বিষয়টিকে হালকা ভাবে নেওয়া উচিত নয়। নিয়মিত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস (healthy diet) বজায় রাখলে শিশু থাকবে সক্রিয়, হাসিখুশি ও সুস্থ।
