নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতার বড়বাজারে (Burrabazar Fire) ভোররাতে ঘটে গেল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ঘিঞ্জি বাজার এলাকা, চারদিকে দাহ্য ইলেকট্রিক সামগ্রী (electric goods), আর তার মধ্যেই আচমকা আগুন লাগায় মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র এলাকায়। শনিবার ভোর প্রায় পাঁচটা নাগাদ ১৭ নম্বর এজরা স্ট্রিটের একটি দু’তলা ইলেকট্রিক সামগ্রীর দোকানের ওপরতলা থেকে আগুন (Fire) ধোঁয়া-সহ উঠে আসতে দেখা যায়। প্রথমে স্থানীয়রাই বালতি ও পাইপের জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু আগুনের তীব্রতা দ্রুত বাড়তে থাকায় খবর দেওয়া হয় দমকলে।
আরও পড়ুন:Bihar Assembly Election 2025: বিহারের জয় এনডিএ-র, কিন্তু বাড়তি হাওয়া যেন দিদির দিকেই!
দমকল বাহিনীর প্রথমে ছ’টি ইঞ্জিন পৌঁছয়, পরে আরও চারটি ইঞ্জিন যোগ হয়ে মোট দশটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নেমে পড়ে। দোকানে প্রচুর ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি (AC, electric appliances) মজুত থাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের (explosion) শব্দ শোনা যেতে থাকে। দাহ্য পদার্থ, তারের গুচ্ছ, আর স্টোরেজে থাকা বিভিন্ন গ্যাজেটের কারণে আগুন হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের অংশে।
আগুন লাগা বিল্ডিংটি সম্পূর্ণভাবে আগুনে গ্রাস হয়ে যায়। তীব্র দাউ দাউ করে জ্বলা শিখা (flames) উড়ে গিয়ে উল্টোদিকের বিল্ডিংয়ের একতলা থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে উপরের তলাগুলোকেও গ্রাস করে। শেষ পর্যন্ত আগুন ছাদ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, বেশ কয়েকবার সিলিন্ডার (cylinder) ফাটার মতো শব্দও শোনা গেছে, যার ফলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
দমকল কর্মীরা দুই দিক থেকে জল ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আগুনের কেন্দ্রস্থল এতটাই উত্তপ্ত যে ভেতরে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পাশের বাড়িগুলোর ছাদে পৌঁছে জল মারলেও প্রচণ্ড তাপে সামনে এগোনো যাচ্ছে না। বহু বাড়ির টিনের ছাদ তাপে বেঁকে যাচ্ছে, ফলে উদ্ধারকাজ (rescue) আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রাও নিজেদের বাড়ির ছাদ থেকে পাইপের জল দিয়ে দমকলকে সহায়তা করছেন।
এখনও পরিস্থিতি ভয়াবহ। আগুন লাগা বিল্ডিংটি পুরোপুরি জ্বলছে এবং বিপরীত দিকের বাড়ির ছাদ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। বিস্ফোরণের শব্দ থামছে না। আশপাশের সমস্ত বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ না হয়। দমকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় লাগবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
