নিউজপোল ব্যুরো: এতদিন ধরে চলা আর জি করের নৃশংস কাণ্ড এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে সুবিচারের আশায় চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করে রয়েছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ। সেই কোটি কোটি মানুষের আবেগকে মর্যাদা দিয়ে এবার সরাসরি ময়দানে নেমে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI).। আজ ভরদুপুরে ৬ সদস্যের এক শক্তিশালী সিবিআই টিম সরাসরি পৌঁছে গেল হাসপাতালে।
সিবিআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার সরাসরি নজরদারিতে শুরু হওয়া এই অ্যাকশন যে আর জি করের ভেতরে লুকিয়ে থাকা বহু ‘প্রভাবশালী’ রাঘববোয়ালকে খাঁচায় পুরতে চলেছে, সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চের কড়া নির্দেশের পরেই ৬ সদস্যের সিবিআই টিম সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আর জি করের ভেতরের সিন্ডিকেট ভাঙতে ৩ সদস্যের একটি স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা ‘সিট’ (SIT)-ও কাজ করবে ।হাসপাতালের ভেতরে ঢুকেই সিবিআই আধিকারিকরা বিভিন্ন পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, কার নির্দেশে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল এবং কার কথায় এতদিন ধরে এই পুরো ব্যবস্থাকে আড়াল করার চেষ্টা চলছিল—তার সব নথি এবার নিজেদের হেফাজতে নিচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
আদালতের এই কড়া মনোভাব এবং সিবিআই-এর অন-স্পট অ্যাকশন প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, প্রভাব খাটিয়ে বা ক্ষমতার আস্ফালন দেখিয়ে এবার আর পার পাওয়া যাবে না। “সময়ের হিসাব সময় মনে রাখে, পাপের শাস্তি পেতেই হয়!”—আর জি করের বুকে দাঁড়িয়ে ঠিক এই ভাষাতেই শাসকদলকে তীব্র হুঁশিয়ারির মুখে দাঁড় করাল এতদিন ধরে যারা ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে, সরকারি পদের দাপট দেখিয়ে আর জি করের নৃশংস কাণ্ডকে ধামাচাপা দেওয়ার নোংরা খেলা খেলছিল, আজ তাদের প্রত্যেকের পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে। কোটি কোটি রাজ্যবাসীর চোখের জল এবং সুবিচারের জন্য এই দীর্ঘ প্রতীক্ষাকে যারা পাত্তাই দেয়নি, হাইকোর্টের ডবল ঝটকায় আজ সেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। ৬ সদস্যের সিবিআই টিম হাসপাতালে ঢুকে পদাধিকারীদের ফাইলে হাত দিতেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, শাসকের তৈরি করা ‘প্রোটেকশন বলয়’ এবার ভেঙে পড়বে। ৩ সদস্যের বিশেষ ‘সিট’ (SIT) এবং সিবিআই-এর এই যৌথ সাঁড়াশি চাপ সরাসরি তৃণমূলের সেই শীর্ষ মাথাদের ট্রিগার করেছে, যারা এতদিন এই অপরাধের প্রধান মাথা ছিল। সময়ের চাকা ঘুরে গিয়েছে এবং আর জি করের রক্তের প্রতিটা ফোঁটার হিসাব বুঝিয়ে দিয়ে অপরাধীদের শ্রীঘরে ঢোকানোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।
