নিউজপোল ব্যুরোঃ কলকাতা পুরসভার মঞ্চে আজ দেখা গেল এক বিরল রাজনৈতিক ছবি। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, অন্যদিকে তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মালা রায় এবং অন্যান্য জনপ্রতিনিধি। আর সেই মঞ্চ থেকেই কলকাতাকে ঘিরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা “একসময় ভারতবর্ষের কালচারাল ক্যাপিটল ছিল কলকাতা। আমরা আবার সেই মর্যাদা ফিরিয়ে আনব। সবাইকে চমকে দিয়ে মঞ্চ থেকে ফিরহাদ ও মালা রায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন, “উন্নয়নের স্বার্থে কোনো এপক্ষ-ওপক্ষ নেই, আমরা সবাই একপক্ষ”।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম কলকাতা পুরসভার অনুষ্ঠানে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠান থেকেই কলকাতা পুরসভার নির্বাচন নিয়ে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস (De-limitation) শেষ করে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় নতুন বোর্ড গঠন করা হবে। রাজ্য সরকার বাধ্য হয়ে প্রশাসক বসালেও পুরসভার জনপরিষেবার কাজ কোনো অবস্থাতেই থমকে থাকবে না। আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় আসছেন এবং সেই মেগা অনুষ্ঠান এবার কলকাতা পুরসভাতেই মহাসমারোহে আয়োজিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্রে মানুষের মতই শেষ কথা। আগামী ১৮ জুন ভবানীপুরে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি ১৯ জুন স্বচ্ছতা অভিযানের অংশ হিসেবে হাফ ম্যারাথনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। বিশ্ব যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতা পুরসভায় বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়েও কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মালা রায় ও ফিরহাদ হাকিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, উন্নয়নের স্বার্থে অতীতের রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা-ওরা নয়, কলকাতার ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ইতিবাচক ও দূরদর্শী নেতৃত্ব আগামী দিনে কলকাতার বুকে এক নতুন সোনালী অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। অতীতের সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যেভাবে তিনি বিরোধী দলের কাউন্সিলরদের সম্মান জানালেন এবং উন্নয়নের স্বার্থে সবাইকে এক মঞ্চে নিয়ে এলেন, তা সত্যিই এক প্রশংসনীয় ও কুর্নিশযোগ্য পদক্ষেপ।
