নিউজ পোল ব্যুরো:লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক। প্রাক্তন জম্মু-কাশ্মীর মুখ্যমন্ত্রী ফারুখ আবদুল্লার বক্তব্যকে নিশানা করে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর (Shashi Tharoor on terrorism) রবিবার এক বিবৃতিতে জানান—ভারতে সন্ত্রাসবাদের সূচনা হয়েছিল কাশ্মীরেই, আর আজ সেই সন্ত্রাসের ছায়া বিস্তৃত হয়েছে গোটা দেশে। থারুরের এই মন্তব্যের পর উত্তাল জাতীয় রাজনীতি।
শনিবার শ্রীনগরে ফারুখ আবদুল্লা বলেন, দিল্লি বিস্ফোরণে কাশ্মীরিদের দিকে সন্দেহের আঙুল তোলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর প্রশ্ন—“কবে বিশ্বাস করা হবে আমরা ভারতীয়? একজন চিকিৎসক কেন এ পথে গেলেন, তা গভীরভাবে তদন্ত হওয়া উচিত।” ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন, বলেন—“এতে কোনও লাভ হয়নি, বরং আমরা হারিয়েছি ১৮ জনকে।”
রবিবার তারই পালটা জবাবে শশী থারুরের (Shashi Tharoor on terrorism) দাবি, “১৯৮৯-৯০ সালে কাশ্মীরে সন্ত্রাসের বীজ পোঁতা হয়েছিল। তারপর তা মুম্বাই, পুণে, এবং শেষে দিল্লি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। তিন দশক ধরে ভারত সন্ত্রাসের যন্ত্রণা ভোগ করছে। এখন কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
থারুর আরও বলেন, “প্রত্যেক সন্ত্রাসী হামলায় দু’টি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—কে এবং কেন? পাশাপাশি, এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা। সবকিছুকে যুদ্ধ-শান্তির চোখে দেখা যায় না। সন্ত্রাস দমন যেমন প্রয়োজন, তেমনই উন্নয়নের লক্ষ্যে নজর দেওয়া অপরিহার্য।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে লালকেল্লার কাছে মেট্রো স্টেশনের সামনে বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১৩ জন। তদন্তে উঠে এসেছে—উমর উন-নবি নামে কাশ্মীরের এক তরুণ চিকিৎসক বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল। তাঁর যোগাযোগ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন, কাশ্মীরসহ বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা চিকিৎসকদের একটি চক্র ‘হোয়াইট কলার টেরর’ নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিল।
এনআইএ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি ও ধরপাকড় শুরু করেছে। শ্রীনগর-সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে গ্রেফতার হয়েছেন বহু চিকিৎসক। তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে বিস্ফোরণের আগে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ধরা পড়েছে। এছাড়াও ফরিদাবাদ থেকে সেদিন বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়িটি মূল অভিযুক্ত উমরের বলে সন্দেহ।
বিস্ফোরণের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—‘হোয়াইট কলার টেরর’-এর জাল কতটা গভীর এবং বিস্তৃত। আর এই প্রেক্ষাপটেই থারুর বনাম ফারুখের রাজনৈতিক লড়াই নতুন মাত্রা যোগ করেছে জাতীয় আলোচনায়।
