নিউজ পোল ব্যুরো: দিল্লি (Delhi) জুড়ে আতঙ্ক এখনও কাটেনি লালকেল্লার ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর। তার মধ্যেই নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন নিম্ন আদালতে বোমাতঙ্কের জেরে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই সাকেত আদালত, পাটিয়ালা হাউস কোর্ট এবং তিস হাজারি আদালতে একের পর এক হুমকির খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গেই আদালত ভবন খালি করে দেওয়া হয়। আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী যত জন তখন ভেতরে ছিলেন, সকলকেই দ্রুত বাইরে বের করে আনা হয়। বন্ধ করে দেওয়া হয় সমস্ত শুনানি ও প্রশাসনিক কাজকর্ম। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি পুলিশের ( Delhi Police) বিশেষ দল, বোম স্কোয়াড, ডগ স্কোয়াড—সকলেই শুরু করেন তল্লাশি অভিযান। শুধু আদালতই নয়, একই সময়ে দিল্লির (Delhi) দ্বারকা এবং প্রশান্ত বিহার এলাকার দুটি সিআরপিএফ স্কুলেও (CRPF Schools) বোমা রাখা হয়েছে বলে খবর ছড়ায়। তড়িঘড়ি স্কুল খালি করে ফেলেন কর্তৃপক্ষ। পৌঁছে যায় পুলিশের শীর্ষ পদস্থ আধিকারিকরা। শুরু হয় একটানা তল্লাশি। বহু ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধান চললেও কোথাও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। তবুও কোনও ঝুঁকি না নিয়েই পুরো এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী।
আরও পড়ুন : Zubeen Garg : অকালপ্রয়াত জুবিন গর্গের প্রথম জন্মদিনে আবেগঘন শ্রদ্ধা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
সূত্রের খবর, এই আতঙ্কের নেপথ্যে রয়েছে একটি হুমকিমূলক ইমেল (Jaish Email Threat)। পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের নাম করে ওই ইমেল পাঠানো হয় বলে জানা গেছে। ইমেলে একাধিক আদালত ও গুরুত্বপূর্ণ স্কুল উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঠিক সেই কারণে রাতারাতি জারি হয় হাই অ্যালার্ট। এখন দিল্লি পুলিশের (Delhi Police) সাইবার টিম খতিয়ে দেখছে—এই ইমেল একটি উৎস থেকে পাঠানো হয়েছিল, নাকি একাধিক জায়গা থেকে একই ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
দিল্লির (Delhi) নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই মেল কতটা বড় প্রভাব ফেলেছে তা বোঝা যায় পুলিশি প্রস্তুতি দেখেই। শহরজুড়ে (Delhi Security Alert) বাড়ানো হয়েছে নজরদারির মাত্রা। চতুর্দিকে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী। বলে রাখা জরুরি, মাত্র কিছু দিন আগেই, ১০ নভেম্বর, লালকেল্লার কাছে ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল ১৩ জনের। সেই ঘটনার তদন্ত করছে এনআইএ (NIA Investigation)। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে বিস্ফোরক তথ্য। তাই নতুন করে বোমাতঙ্ককে কোনওভাবেই হালকা ভাবে নিতে নারাজ পুলিশ কর্তারা। বরং প্রতিটি হুমকি, প্রতিটি সূত্র, প্রতিটি ইঙ্গিত গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখছে পুলিশ ও তদন্তকারীরা।
