নিউজ পোল ব্যুরো: কিছু নীরবতা এমনই হয়, যার সামনে দাঁড়িয়ে কোনও প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায় না। কথারা ফিরে আসে নিজের কাছেই, কারণ উল্টো দিকের মানুষটি ততক্ষণে নিজের মনে একটা অচল ডিপ ফ্রিজ (Deep Freeze) তৈরি করে ফেলেছে। সেখানে ঠাঁই পেয়েছে না-পাওয়া, হতাশা, বিশ্বাসভঙ্গ আর ভাঙনের সব স্মৃতি। সেই জমাট চাপ কখনও কখনও সম্পর্কের তার ছিঁড়ে ফেলে। কিন্তু সত্যিই কি ছিঁড়ে যায়? ঠিক এই প্রশ্নটাই তোলে অর্জুন দত্তের (Arjun Dutta)ছবি ‘ডিপ ফ্রিজ’ (Deep Freeze)। ছবির গল্প খুব ছোট, কিন্তু তার অভিঘাত অসাধারণ গভীর। সংবেদনশীল চিত্রনাট্য, সুনির্দিষ্ট সংলাপ এবং সুপ্রতিম ভোলের লিরিকাল ক্যামেরা—সব মিলিয়ে এই সিনেমা এক রাতের আবহকে রূপ দেয় এক অনিবার্য কবিতার মতো (Deep Freeze) । মাঝে মাঝে ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে আসে অতীতের মধুর মুহূর্ত, যেন বারবার শোনা কোনও সুরের রিফ্রেন। সুচারু সম্পাদনা ছবির ছন্দ ধরে রাখে নিখুঁতভাবে।
এখানে কোনও চরিত্রই সাদা-কালো নয়। বরং বাস্তবের মতোই তারা ভুল-ত্রুটিতে গড়া। একরাতের বৃষ্টিতে থমকে থাকা স্বর্ণাভ ও মিলির মুখোমুখি হওয়া আসলে অতীতের অগোচর ক্ষত খুলে দেওয়ার সুযোগ। বিবাহ বিচ্ছেদের পরে সম্পর্ক ভেঙে গেলেও, তাদের পরিণত আচরণ বারবার মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা মানেই রাগ-অভিমান নয়, বরং সম্মান, দায়িত্ববোধ এবং মেনে নেওয়া। স্বর্ণাভের ভূমিকায় আবির চট্টোপাধ্যায় নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন সেই অসহায় পুরুষটিকে, যে ভুল করেছিল কিন্তু ভালোবাসা ভুলে যায়নি। তনুশ্রী চক্রবর্তী (Tanushree Chakraborty)মিলির যন্ত্রণায়, ক্ষোভে, সংযমে দুর্দান্ত। রঞ্জার চরিত্রে অনুরাধা মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতি ছবিকে বাস্তবতার আরেক নতুন রঙ দেয়। ছোট পরিসরে শোয়েব কবীর, দেবযানী চট্টোপাধ্যায় ও কৌশিক চট্টোপাধ্যায়ও প্রশংসনীয়। সৌম্য ঋত-এর সুর ছবির আবহকে আরও ঘন করে, বিশেষ করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহার।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তবে ছেলের জ্বরের দৃশ্য এবং কফি খাওয়ার পুনরাবৃত্তি খানিকটা বাড়তি লাগে। গল্পে চমকের উপাদান থাকলে আরও প্রভাবশালী হতে পারত। তবুও ছবির শেষ বার্তা—ভাঙন মানে শেষ নয়, নতুন শুরুও সম্ভব—মনে গভীর দাগ কাটে। জাতীয় পুরস্কারের পর অর্জুন দত্ত (Arjun Dutta) আরও পরিণত পরিচালনার পরিচয় দিয়েছেন। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গেলে নিরাশ হবেন না।
