নিউজ পোল ব্যুরো:অস্তিত্বের সংকট, সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা— এমন উত্তাল সময়ের মধ্যেই ভারত এখনও টিকে আছে এক প্রাচীন ও ধারাবাহিক সভ্যতার আধার হয়ে। মণিপুর সফরের দ্বিতীয় দিনে জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে সেই ঐতিহ্যকেই নতুন করে গুরুত্ব দিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat statement)। তাঁর বক্তব্য, ভারত কোনও আধুনিক রাষ্ট্রগঠনের প্রকল্প নয়; এটি এমন এক চিরন্তন সভ্যতার কেন্দ্র, যার শক্তির মূলভিত্তি সাংস্কৃতিক চেতনা ও সামাজিক ঐক্য।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2025/11/23/cyclone-bay-of-bengal-weather-change-alert/
ইউনান, মিশর, রোম— অতীতের বহু শক্তিশালী সাম্রাজ্য সময়ের প্রবাহে নিশ্চিহ্ন হলেও ভারত আজও জীবন্ত। ভাগবতের দাবি, ভারতের স্থায়িত্বের কারণ তার সমাজ কাঠামোর গভীরে থাকা চেতনাগত সংহতি। রামায়ণ, মহাভারত, কালিদাস— প্রাচীন সাহিত্য ও ইতিহাসে যে ভারতবর্ষের পরিচয় পাওয়া যায়, সেই ধারাবাহিক অস্তিত্বই হিন্দু সমাজকে টিকিয়ে রেখেছে। তাঁর বক্তব্য, “হিন্দুর অস্তিত্ব না থাকলে পৃথিবীরই অস্তিত্ব টিকত না। ভারত হল অমর সভ্যতা।”
বিদেশি আক্রমণ, সাম্রাজ্যের উত্থান-পতন, একাধিক শাসনব্যবস্থা— সবকিছুর মধ্যেও ভারতের মূল পরিচয় অপরিবর্তিত থেকেছে— এই বার্তাই দেন তিনি। ভাগবতের কথায়, “কখনও এক শাসক, কখনও বহু রাজ্য, কখনও স্বাধীনতা, কখনও দখল— সব ঘটেছে। কিন্তু দেশ ছিল এক।”
ইম্ফলে স্থানীয় উপজাতি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকেও ভাগবত আহ্বান জানান সম্প্রীতির। সঙ্ঘ কোনও রাজনৈতিক শক্তি নয়— উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরএসএস-এর ভিত্তি বন্ধুত্ব, স্নেহ, সামাজিক কর্তব্য ও মানবিকতা। তাঁর মতে, ঐক্যের অর্থ সবাইকে এক রূপে গড়ে তোলা নয়; বরং বৈচিত্র্যই ভারতের প্রকৃত শক্তি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
আরএসএস-কে “মানুষ গড়ার আন্দোলন” বলে বর্ণনা করে ভাগবত ( Mohan Bhagwat statement) জানান— সঙ্ঘকে বুঝতে হলে শাখায় যেতে হবে। সমাজের উন্নতির লক্ষ্যে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা প্রত্যেকেই, তাঁর ভাষায়, “অঘোষিত স্বয়ংসেবক”।
ভাগবতের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সঙ্ঘের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সামাজিক বার্তা— যার উদ্দেশ্য শান্তি, সংহতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে মজবুত করা।
সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে শুরু হওয়া তাঁর মণিপুর সফরে শিল্পোদ্যোগী, সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন উপজাতি সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করছেন। উল্লেখযোগ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া মেইতেই–কুকি সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২৬০-রও বেশি মানুষ, ঘরছাড়া হয়েছেন হাজার হাজার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মণিপুর সফরের পরই সংঘ প্রধানের আগমন— ফলে রাজনৈতিকভাবে তাঁর এই বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।
