SIR: নবদম্পতির সুখের দিনে এসআইআরের চাপ! ডোমকলের BLO-র ব্যতিক্রমী দৃশ্য

রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: মাত্র দু’মাসের মধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার চাপ যেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ছাপিয়ে গেছে। অসুস্থতা, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা জীবনের বিশেষ মুহূর্ত, সব কিছুর মাঝেই হস্তক্ষেপ করছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই এনুমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজেশন সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হলেও বাস্তবে এখনও বিপুল পরিমাণ ফর্ম আপলোড বাকি। ফলে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটছেন ব্লক লেভেল অফিসাররা বা বিএলওরা।

আরও পড়ুন:CV Ananda Bose: এসআইআরে মৃত্যুর ছায়া, তদন্তে সম্মতি দিলেন রাজ্যপাল বোস

এমনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হলেন মুর্শিদাবাদের ডোমকলের ভাতশালা গ্রামের মানুষ। নিজের বউভাতের অনুষ্ঠানেও কাজ থামালেন না বিএলও মোস্তাক আহমেদ। বিয়ের পোশাক পরেই ঘরের এক কোণে বসে ল্যাপটপে ব্যস্ত ছিলেন তিনি, আপলোড করছিলেন এসআইআরের ডাটা। বাইরে যখন অতিথিদের ভিড় ও উৎসবের আমেজ, তখন ঘরের ভিতরে একলা বসে কর্তব্য পালন করছিলেন নববিবাহিত বর। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোস্তাক আহমেদের কর্মস্থল ইসলামপুরের আনন্দনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা তাঁর বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। তাঁর অধীনে রয়েছে মোট ৭৭৪ জন ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ, সংগ্রহ এবং অনলাইন ডাটা এন্ট্রির দায়িত্ব। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তিনি মাত্র ৪০ শতাংশ কাজ শেষ করতে পেরেছেন। হাতে সময় কম থাকায় বিয়ের দিনেও তাঁকে কাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

মোস্তাক আহমেদ জানান, “এই কাজটা নিখুঁতভাবে শেষ করতে না পারলে সমস্যা হতে পারে। সময়সীমা খুব কড়া, তাই আজকের দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও আমাকে কাজ করতে হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এটা একটা বড় দায়িত্ব। পরিবারের সবাই বুঝতে পেরেছেন বলেই আমি শান্তিতে কাজটা করতে পারছি।” এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রশাসনিক চাপ কীভাবে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের আনন্দঘন মুহূর্তেও ছায়া ফেলছে। বউভাতের দিনেও ল্যাপটপের সামনে বসে ভোটার তালিকার তথ্য আপলোড করা যেন সময়ের দাবির এক কঠিন বাস্তব ছবি। তবুও হাসিমুখে মোস্তাক বলেন, “হয়তো ভবিষ্যতে এটা একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে। মানুষ বলবে, এসআইআরের জন্য একজন বর নিজের বউভাতের দিনেও ডাটা এন্ট্রির কাজ করেছিল।” ডোমকলের এই বিয়েবাড়ির দৃশ্য আজ যেন রাজ্যের হাজারো বিএলও-র কর্মচাপের প্রতীক হয়ে উঠেছে, যেখানে দায়িত্বের ভারে চাপা পড়ে যাচ্ছে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্তগুলোও।