নিউজ পোল ব্যুরো: এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিএলওদের স্ট্যাম্প ব্যবহার নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ফর্ম জমা নেওয়ার সময় বিএলওদের স্ট্যাম্প দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে দু’টি নির্ধারিত ফর্মের মধ্যে অন্তত একটিতে বিএলওর স্বাক্ষর অবশ্যই থাকতে হবে। সেই স্বাক্ষরই গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি ব্যারাকপুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা থেকে অভিযোগ ওঠে যে, এনুমারেশন ফর্ম গ্রহণের সময় বহু বিএলও স্ট্যাম্প দিচ্ছেন না, শুধুমাত্র সই করেই ফর্ম জমা নিচ্ছেন। এর জেরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয় যে, স্ট্যাম্প না থাকলে ভবিষ্যতে খসড়া ভোটার তালিকায় নাম ওঠার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় কমিশন বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দেয় এবং জানায়, স্ট্যাম্প দেওয়া নিয়ে বাধ্যবাধকতার কোনও উল্লেখ সরকারি নির্দেশিকায় নেই। ফলে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের মতে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চলছে। তাই সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। শুধুমাত্র বিএলওর বৈধ স্বাক্ষর থাকলেই ফর্ম গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য হবে এবং সেটার ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, হাতে আর ১০ দিনেরও কম সময় বাকি। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে পুরোদমে চলছে ভোটার তালিকার বিশেষ ও নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর পর্বের কাজ। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় ৭ কোটি ৬৪ লক্ষ নাগরিকের কাছে এনুমারেশন ফর্ম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৭.৬৬ কোটি, ফলে মাত্র দুই লক্ষ ফর্ম বিতরণ বাকি রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
এছাড়াও জমা পড়া ফর্মগুলির মধ্যে ৪১.২ শতাংশ ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ফর্মের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন কোটি ১৫ লক্ষের গণ্ডি। কমিশন আশাবাদী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।
