নিউজ পোল ব্যুরো: প্রায় বারো ঘণ্টার দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ইডি দফতর থেকে বেরোলেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর পুত্র সমুদ্র বসু। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সোমবার সকালেই তাকে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সেই নির্দেশ মেনে সমস্ত প্রাসঙ্গিক নথিপত্র সঙ্গে নিয়ে সকালেই তিনি ইডির দফতরে পৌঁছান। সূত্রের দাবি, রাত সাড়ে দশটা নাগাদ তাঁকে দফতর থেকে বেরোতে দেখা যায়।
এর আগেও সমুদ্র বসুকে তলব করেছিল ইডি। গত বৃহস্পতিবার তাকে হাজির হতে বলা হলেও তিনি সে দিন উপস্থিত হননি। ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি আবেদন করেছিলেন, অন্য কোনও দিনে হাজিরার সুযোগ দেওয়া হোক। সেই আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পরই সোমবার তাকে ফের ডাকা হয় এবং ওই দিন তিনি নির্ধারিত সময়েই ইডি দফতরে উপস্থিত হন। এই মামলার সূত্রে সুজিত বসুর পরিবারের অন্য সদস্যদের দিকেও নজর দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। জানা গেছে, বুধবার হাজিরা এড়িয়েছেন সুজিতের স্ত্রী। তবে গত সপ্তাহে তাঁর কন্যা মোহিনী বসু ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নথিও জমা করেছেন। মোহিনীর স্বামীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তাঁর পরিবারের একাধিক ব্যবসা রয়েছে এবং সেই ব্যবসায় পুর নিয়োগ দুর্নীতির অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে ইডি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
এ প্রসঙ্গে সুজিত বসু দাবি করেছেন, তার পরিবারের কেউই আইনের হাত এড়ানোর চেষ্টা করছেন না। হাজিরা না দেওয়া মানেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা নয় বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তাঁর কথায়, “আমরা পালিয়ে যাওয়ার মানুষ নই, তদন্তে সহযোগিতা করছি এবং করব।” উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে লেকটাউনে অবস্থিত সুজিত বসুর দুটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয় এবং মন্ত্রীর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ফের অভিযান চালানো হয়। সল্টলেকের সেক্টর ওয়ানে তার দফতর এবং গোলাহাটায় সমুদ্র বসুর মালিকানাধীন ধাবায়ও তল্লাশি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। পুর নিয়োগ দুর্নীতি ঘিরে ক্রমশ জটিল হচ্ছে তদন্ত, আর তার জেরেই সুজিত বসু পরিবারের বিরুদ্ধে নজরদারি আরও কড়া করেছে ইডি।
