SSC Recruitment Case: অবশেষে আদালতের নির্দেশে প্রকাশ্যে অযোগ্যদের সম্পূর্ণ তালিকা

কলকাতা রাজ্য শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: ২০১৬ সালের রাজ্য সরকারি শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে অযোগ্য ঘোষিত প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ নামের তালিকা অবশেষে প্রকাশ করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরের মোট ১৮০৬ জন শিক্ষককে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে ৫৪ পাতার বিস্তারিত তালিকা কমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। ওই তালিকায় প্রার্থীদের নাম, রোল নম্বর, যে বিষয়ে তাঁরা শিক্ষকতা করতেন, বাবার নাম ও জন্ম সাল-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষক নিয়োগে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর—SSC-কে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের জেরে সুপ্রিম কোর্ট আগেই গোটা প্যানেল বাতিলের নির্দেশ দেয়। ফলে প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়ে যায়। শুনানি চলাকালীন কমিশন আদালতে অযোগ্য প্রার্থীদের একটি আংশিক তালিকা জমা দিলেও, বাকিরা যে যোগ্য তার কোনও নির্ভরযোগ্য হলফনামা পেশ করতে পারেনি। এই কারণেই শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে যে যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথক করা সম্ভব না হওয়ায় সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিল করা হয়েছে।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, অযোগ্য প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। বুধবার ফের আদালত জানায়, শুধু নাম নয়, তালিকায় প্রার্থীদের ঠিকানা ও পিতৃপরিচয়ও উল্লেখ থাকতেই হবে। সেই নির্দেশ মেনেই বৃহস্পতিবার এই বিস্তৃত তালিকা প্রকাশ করল এসএসসি। এই প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু সাংবাদিকদের জানান, আদালতের নির্দেশ পুরোপুরি মেনে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে এবং আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই কমিশন কাজ চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গোটা প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole

অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারই বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চ ২০২৫ সালের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সমস্ত ওএমআর শিট প্রকাশের নির্দেশ দেয়। এসএসসিকে আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ওয়েবসাইটে তা আপলোড করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০১৬ সালের নিয়োগে প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যাঁরা নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ স্তরে নিয়োগপত্র পেয়েছিলেন, তাদের তালিকাও তলব করেছে আদালত। এই গোটা ঘটনায় রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন বিতর্ক এড়াতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে।