নিউজ পোল ব্যুরো: বলিউডের সঙ্গীত-জগতের ইতিহাসে যাঁরা সময়কে ছাপিয়ে চিরকালীন হয়ে ওঠেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম উদিত নারায়ণ (Udit Narayan)। নব্বই দশকের মোড় ঘোরানো সময় থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর কণ্ঠ একাই যেন রোম্যান্সের সংজ্ঞা। যখন অধিকাংশ শিল্পী ‘কণ্ঠী গায়ক’ হয়ে কারও না কারও ছায়া অনুসরণ করে বলিউডে জায়গা করে নিচ্ছিলেন, তখন উদিত নারায়ণ (Udit Narayan) স্বকীয় সুরে গেয়ে নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছেন। তাঁর কণ্ঠে পাহাড়ি অঞ্চলের টান, খোলা গলার ভরাট সুর আর মেলোডির নেশা শ্রোতাকে আজও মোহিত করে।
আরও পড়ুন:Amitabh Bachchan: জন্মদিনে অমিতাভকে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী! পুরনো দিনের গল্পে ফিরলেন তিনি
বলিউডে প্রথম দিকেই রাহুল দেব বর্মনের মতো সুরকারদের সুরে গান গেয়ে নজর কাড়েন তিনি। তবে প্রকৃত জনপ্রিয়তা এনে দেয় ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’ ছবির গান— বিশেষ করে ‘পাপা কহতে হ্যায়’। এই গানেই স্পষ্ট হয় তাঁর গায়কির স্বাতন্ত্র্য। যে গায়ক প্রথম দিন থেকে নিজের সুরসত্তাকে বদলে নিতে চাননি, সেই উদিত নারায়ণ (Udit Narayan) আজও সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমান স্বচ্ছন্দ। শিল্পীর সাফল্যের আর এক বড় কারণ তাঁর ব্যক্তিত্ব। মাটির কাছাকাছি থাকা, সহজ-সরল, হাসিখুশি এই মানুষটিকে কখনও রাগতে দেখা যায় না। যে কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মুহূর্তে পরিবেশ মাত করে দিতে পারেন তিনি। তাই নব্বই দশকের পাশাপাশি ২০২৫ সালেও চলতি প্রজন্মের ছবিতে তাঁর কণ্ঠ সমানভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
অলকা যাজ্ঞিকের সঙ্গে তাঁর রসায়ন নিয়ে বহু আলোচনা থাকলেও তা নিছকই পেশাদার বন্ধুত্ব— এমনটাই মত সঙ্গীতমহলের। একইভাবে কুমার শানু ও উদিত নারায়ণ (Udit Narayan)-কে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা ভুল। সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকলেও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে কোনও তিক্ততা নেই। বরং তিন জন মিলে নব্বই দশককে ‘প্রেমের দশক’ বানিয়েছেন বলিউড সঙ্গীতে। আজকের প্রজন্মে গানের ধারা বদলেছে; মেলোডির তুলনায় বিট-ভিত্তিক গান বেশি জনপ্রিয়। তবু প্রশ্ন থাকে— এই যুগে জন্মালেও কি উদিত নারায়ণ (Udit Narayan) সমান খ্যাতি অর্জন করতে পারতেন? উত্তর— অবশ্যই। তাঁর কণ্ঠের জাদু, প্রকাশভঙ্গি ও অনায়াস রোম্যান্টিকতা যুগ-সময়ের বাইরে। আট থেকে আশি— সকলের মনেই তাঁর জন্য আলাদা জায়গা আছে। এই কারণেই উদিত নারায়ণ (Udit Narayan) আজও বলিউডের ‘চিররোম্যান্টিক নায়কস্বর’।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
