নিউজ পোল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বেলডাঙায় বাবরি মসজিদের আদলে ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণের ঘোষণা করে ফের রাজনৈতিক অঙ্গনকে তোলপাড় করে দিলেন ভরতপুরের সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর এই ঘোষণা ঘিরে জেলা থেকে রাজ্য দুই স্তরেই তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঢেউ উঠেছে। আর সেই বিতর্কই শেষ পর্যন্ত পৌঁছে গেল কলকাতা হাই কোর্টের (High Court) দ্বারস্থ। হুমায়ুনের (Humayun Kabir) পদক্ষেপকে সংবিধানবিরোধী ও সামাজিক সম্প্রীতি-বিরোধী অভিযোগ জানিয়ে আইনজীবী সব্যসাচী চক্রবর্তী জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি বৃহস্পতিবার হাই কোর্টে (High Court) উপস্থাপন করা হলে হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ নিয়ম অনুযায়ী মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পরামর্শ দিয়েছে। যদিও শুনানির নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি, আইনি মহলের মতে খুব শীঘ্রই এই ইস্যুতে আদালতের কড়া অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে। আবেদনকারী আইনজীবীর বক্তব্য, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে হুমায়ুন কবীরের এই ধরনের মন্তব্য ও ঘোষণা শুধু উস্কানিমূলক নয়, তা রাজ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে আঘাত করতে পারে। ফলে আদালতকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন অস্বস্তি তৈরি করেছে। হুমায়ুন কবীরের আচরণে ক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) তাকে বৃহস্পতিবারই দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড করে। দলের মহাসচিব ফিরহাদ হাকিম সাংবাদিক বৈঠকে জানান, দলের সঙ্গে হুমায়ুনের কোনও সম্পর্কই আর থাকবে না। দলের অবস্থান একেবারে পরিষ্কার যে কোনও ধরনের বিভাজনমূলক রাজনীতিকে তারা সমর্থন করে না।
এই প্রসঙ্গে নাম না করেই মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mam। বহরমপুরের সভা থেকে তিনি কটাক্ষ ছুড়ে বলেন, “একটা ধান পচে গেলে আলাদা করে ফেলতে হয়, না হলে গোটা গোদামটাই নষ্ট হয়ে যায়। কিছু পোকামাকড় থাকবেই, তাদের সরিয়ে দিলে রাজ্যও চলবে, দেশও চলবে।” এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ঘনিয়ে এলে কিছু লোক বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিজেপির দালালি করতে শুরু করে। তাঁর কথায়, “ওরা দেশের শত্রু, ওরা ভোটের আগে সমাজে বিভেদ ছড়ানোর রাজনীতি করে।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
