Hypoglycemia : এক মুহূর্তের অসতর্কতায় বিপদ, রক্তে শর্করা কমলেই বাড়ে প্রাণঘাতী ঝুঁকি!

লাইফস্টাইল

নিউজ পোল ব্যুরো : রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়া বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycaemia) এমন একটি সমস্যা, যা ডায়াবেটিসের (diabetics )রোগীদের অজান্তেই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। অনেকেই মনে করেন শুধু রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়াই বিপজ্জনক, কিন্তু শর্করা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেলেও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নিয়মিত ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়া, খাবারের সময় অনিয়ম, অতিরিক্ত শরীরচর্চা (Heavy Exercise) কিংবা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা এই সব কারণে দ্রুত রক্তে শর্করা নেমে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে শর্করার মাত্রা ৭০ mg/dL বা তার নিচে নামলে তাৎক্ষণিক সতর্ক হওয়া জরুরি, কারণ তখন থেকেই শরীর ভিতরে ভিতরে বিপদ সংকেত দিতে শুরু করে, আর অবহেলা করলে হৃদ্‌রোগ, স্নায়ুক্ষতি এমনকি কোমায় চলে যাওয়ার মতো গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: Robotics Course: দুর্গাপুরে পড়াশোনার পাশাপাশি রোবোটিক্সে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ! নতুন উদ্যোগে সুযোগ ‘রোবোটিক্স কোর্স’-এ

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার সময় শরীর কিছু স্পষ্ট লক্ষণ (Symptoms) দেখিয়ে দেয়, যা অনেকেই গুরুত্ব দেন না। শর্করা কমে গেলে প্রথমে দেখা দেয় হাত-পা কাঁপুনি, অস্বাভাবিক ঠান্ডা লাগা বা ঘাম, হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়া, তীব্র খিদে পাওয়া কিংবা বমি বমি ভাব। অনেকের ক্ষেত্রে মাথা ঝিমঝিম করা, দুর্বল লাগা, কথা জড়িয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা এই সব উপসর্গও দেখা যায়। আরও গুরুতর ক্ষেত্রে রোগী সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়তে পারেন। এই সবই শরীরের (diabetics )ভিতরকার সতর্কবার্তা যে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে যাচ্ছে। বিশেষত যারা ইনসুলিন নেন বা যারা নিয়ম মেনে খাওয়াদাওয়া করেন না, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। তাই নিয়মিত গ্লুকোমিটার (Glucometer) দিয়ে শর্করা পরিমাপ করা এবং শরীরের এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোর দিকে নজর রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

শর্করা কমে গেলেই ঘাবড়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত কাজ করতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রথম ধাপে নিতে হবে র‌্যাপিড অ্যাকটিং সুগার (Rapid-acting sugar) যেমন টাটকা ফলের রস, মধু, বা ৩ চামচ গ্লুকোজ মেশানো পানি। এগুলো শরীরে দ্রুত গ্লুকোজ (diabetics )বাড়িয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্থির করে। এর পরে প্রয়োজন স্লো অ্যাক্টিং সুগার (Slow-acting sugar), যাতে শর্করার মাত্রা দীর্ঘক্ষণ স্থিতিশীল থাকে। এক-দু’ টুকরো পাউরুটি, বিস্কুট বা রুটি এই ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে, কারণ এক টুকরো পাউরুটিতে প্রায় ১৫ গ্রাম ‘স্লো অ্যাকটিং সুগার’ থাকে যা দুই থেকে তিন ঘণ্টা শরীরকে ধরে রাখে। এই সময়ের মধ্যে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া বা পরামর্শ নেওয়া উচিত, বিশেষ করে যদি উপসর্গ কমার কোনও লক্ষণ না থাকে। সব মিলিয়ে, ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে, তাই সচেতনতা, নিয়মিত পরিমাপ ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপই হাইপোগ্লাইসেমিয়ার বিরুদ্ধে সেরা প্রতিরক্ষা।