নিউজ পোল ব্যুরো: রাতভর পায়ে ব্যথা, হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শিরশিরানি বা অসাড় অনুভূতি অনেকেই ‘বাতের ব্যথা’ বলে ভুল করে বসেন। কিন্তু অনেক সময় এই অসুবিধার নেপথ্যে থাকে রক্তে বেড়ে যাওয়া ইউরিক অ্যাসিড (High Uric Acid)। শরীরে পিউরিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে ধীরে ধীরে জমতে শুরু করে ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid), যা পরবর্তীতে অস্থিসন্ধিতে স্ফটিক হয়ে জমে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ তৈরি করে। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের উপর নির্ভর করে পিউরিনের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে। বিশেষ করে রেড মিট, অ্যালকোহল, ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড, প্যাকেটজাত খাবার ইত্যাদি বেশি খেলে রক্তে পিউরিনের মাত্রা দ্রুত বাড়ে। সাধারণত শরীর এই পিউরিনকে কিডনির মাধ্যমে প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। কিন্তু যখন এর পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে যায়, কিডনির কাজ বেড়ে যায় এবং অতিরিক্ত পিউরিন ভেঙে ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) তৈরি হতে থাকে। এই ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) রক্তে এবং হাড়ের সংযোগস্থলে জমে স্ফটিকের মতো শক্ত দলা তৈরি করে, যাকে ইউরিক অ্যাসিডের (Uric Acid) ক্রিস্টাল বলা হয়।
আরও পড়ুন : Hair Care : লেবুপাতার জাদু! শীতকালে খুশকি দূর করতে প্রাকৃতিক সমাধান
সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা যায় হাঁটু, গোড়ালি এবং পায়ের পাতা অঞ্চলে। রাতের দিকে শরীরের তাপমাত্রা ও জলের পরিমাণ কমতে থাকে, ঠিক সেই সময় ইউরিক অ্যাসিডের (Uric Acid) স্ফটিক জমাট বাধার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে মাঝরাতের পর ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়ে ওঠে। শুয়ে বা বসে থাকলে ব্যথা আরও বাড়ে। এ সময় হাঁটুর নীচ থেকে শুরু করে পুরো পা জুড়ে টান ধরার মতো অনুভূতি হতে পারে, পেশিতে খিঁচুনি দেখা দেয় এবং পায়ের পাতা স্পর্শ করলে ব্যথা বাড়ে। শুধু ব্যথাই নয়, অনেকের পায়ে অসাড়তা, জ্বালা, শিরশিরানি বা হঠাৎ পেশি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো অস্বস্তিও হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
সাধারণ পায়ের ব্যথা বিশ্রাম নিলে অনেকটাই কমে যায়, কিন্তু ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) বেড়ে গেলে ব্যথা বিশ্রামেও কমে না। ব্যথার জায়গা লালচে হয়ে ফুলে উঠতে পারে, এমনকি হালকা ছোঁয়াতেও তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। রাতে বারবার এই ধরনের ব্যথা, টান, পেশির খিঁচুনি বা অস্বাভাবিক শিরশিরানি দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া জরুরি। কারণ ইউরিক অ্যাসিড (Uric Acid) নিয়ন্ত্রণে না থাকলে ভবিষ্যতে এটি গাউট, কিডনি সমস্যা ও স্থায়ী জয়েন্ট ড্যামেজের ঝুঁকি বাড়ায়।
