নিউজ পোল ব্যুরো: ঘন পাইনের (Pine Forest) বনে ঘেরা পোখারিধুরা যেন প্রকৃতির আঁচলে লুকিয়ে থাকা এক স্বর্গ। চার পাশের সুউচ্চ গাছের ফাঁকফোকর কখনও ঢেকে দেয় দুধসাদা কুয়াশা (Foggy Landscape), আবার কখনও মেঘ সরে গিয়ে উঁকি দেয় রোদ্দুর। শীতের হাওয়া মাখা এই পাহাড়ি গ্রাম (Mountain Village) আলোয় ভরে ওঠে। নির্জনতা আর শান্তির খোঁজে যারা ঘুরতে ভালোবাসেন, তাদের কাছে পোখারিধুরা নিঃসন্দেহে ‘অফবিট’ (Offbeat Destination) স্বর্গ। উত্তরবঙ্গের মানচিত্রে (North Bengal Tourism) গত কয়েক বছরে অনেক পরিবর্তন এসেছে। পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতিপ্রেমীদের অনেকে চাইছেন ব্যস্ততা ছেড়ে একেবারে নিরিবিলি পরিবেশে কিছুদিন কাটাতে। রামধুরা, মাঝিধুরা-সহ বেশ কিছু গ্রাম যেমন জনপ্রিয় হয়েছে, তেমনই ধীরে ধীরে পর্যটনমুখী হয়ে উঠছে পোখারিধুরা। এর সবথেকে বড় আকর্ষণ কাঞ্চনজঙ্ঘা (Kanchenjunga View)। মেঘ সরলেই চোখে পড়ে শ্বেতশুভ্র পাহাড়চূড়ার মহিমা, যা দিনভর মুগ্ধ করে রাখে।
গ্রামের চারপাশে রয়েছে চা-বাগান (Tea Garden), কাঠের বাড়ি আর অরণ্যের শান্ত নৈঃশব্দ্য। স্মার্টফোনের দুনিয়া ভুলিয়ে দিয়ে পোখারিধুরা বুঝিয়ে দেয় প্রকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে কখনও থমকে যাওয়াও জরুরি। পায়ে হাঁটার শক্তি থাকলে চা-বাগান, পাহাড়ি বাঁক আর ধাপে ধাপে নেমে আসা বনের পথ ধরে ঘুরে দেখুন গ্রামটির প্রতিটি রূপ। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শনের সেরা সময় বলে মনে করা হয়। তবে সে দেখা না মিললেও পোখারিধুরার নিজস্ব শ্যামল-নীল সৌন্দর্য মন ভরিয়ে দেবে। রাতে এই গ্রাম থেকে দেখা যায় দূরে দার্জিলিংয়ের (Darjeeling City Lights) ঝলমলে আলো, যেন পাহাড়ের কোলে সাজানো নক্ষত্রমালা। ভিড় এড়াতে চাইলে এখানেই থেকে ঘুরে নেওয়া যায় দাওয়াইপানি (Dawaipani) ও মংপু (Mungpu)। ডিসেম্বরে দাওয়াইপানিতে রাস্তার ধারে-ধারে কমলালেবুর (Orange Tree) গাছে টইটম্বুর ফল ঝুলতে দেখা যায়। কাছাকাছি মংপুতে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি-বিজড়িত বাংলো, সিঙ্কোনা (Cinchona Plantation) আর রবার গাছের সমারোহ—যা এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এখানে আসতে চাইলে প্রথমে পৌঁছন শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়িতে (NJP Railway Station)। বিমানযাত্রীরা নামবেন বাগডোগরা (Bagdogra Airport)। সেখান থেকে গাড়িতে পোখারিধুরার দূরত্ব প্রায় ৫১ কিলোমিটার। দার্জিলিং থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। জোড়বাংলো থেকে রিষি রোড ধরে ২৯ কিলোমিটার দূরে এই শান্ত পাহাড়ি গ্রাম। থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে—পোখারিধুরার কাছাকাছি রিসর্ট (Resort Stay) ও মংপুর ঘরোয়া হোমস্টেগুলিই ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তোলে।
