Jadavpur University: যাদবপুরের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, সংবিধান প্রণেতা আম্বেডকরকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ মন্তব্য ঘিরে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি

breakingnews কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) ফের বিতর্কের ঝড়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভারতের সংবিধান এবং তার প্রধান নির্মাতা ড. বি.আর. আম্বেডকরকে (B.R Ambedkar) নিয়ে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক অরূপ ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন ওই বিভাগেরই এক ছাত্রী।

আরও পড়ুন: Narendra Modi: নাগরিকত্ব ইস্যুতে উত্তাপ! SIR আবহে উদ্বাস্তু অধ্যুষিত তাহেরপুরে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

অভিযোগকারী ছাত্রী জানান, স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষ, তৃতীয় সেমেস্টারের কিছু পাঠ্যাংশ নিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার অধ্যাপক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন করার পরই অধ্যাপক নাকি তীব্র আপত্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন, “ভারতের সংবিধানকে ছিঁড়ে জলে ফেলে দাও। আম্বেডকর কে? তাঁর প্রস্তাবনা আজ আর কোনও কাজে লাগে না। তোমরা আন্তর্জাতিক বিভাগের ছাত্রছাত্রী হয়ে এসব পড়ে কী লাভ?” অধ্যাপকের এই মন্তব্যে আতঙ্কিত ও ব্যথিত ছাত্রী লিখিতভাবে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) উপাচার্য, সহ-উপাচার্য এবং বিভাগীয় প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এই ঘটনার কথা বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University) উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ তাঁর কাছে পৌঁছেছে। তিনি বর্তমানে বাইরে রয়েছেন, তবে ক্যাম্পাসে ফিরে সংশ্লিষ্ট সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একটি বিশেষ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে অভিযোগগুলির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলবে।

শুধু এই এক ঘটনার অভিযোগই নয় পড়ুয়াদের একটি অংশ দাবি করেছে, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না, অনিয়মিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন এবং ক্লাস চলাকালীন জাতপাতসহ নানা সংবেদনশীল বিষয়ে অনুচিত মন্তব্য করেন। অনেক সময় তিনি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে রুক্ষ ও অমার্জিত আচরণও করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিভাগের মধ্যে ইতিমধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত অধ্যাপক অরূপ ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা বা তাঁর বক্তব্য সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

সমগ্র ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়মহলে শোরগোল উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। প্রশাসনের তরফে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এখন নজর সেদিকেই।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole