নিউজ পোল ব্যুরো: অনিয়মিত ঋতুস্রাব, সামান্য খেয়েও ওজন বেড়ে যাওয়া, তলপেটে যন্ত্রণা— এই উপসর্গগুলি আজ বহু নারীর কাছেই পরিচিত। কিন্তু অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, এর পিছনে লুকিয়ে থাকতে পারে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (পিসিওএস) (PCOS Symptoms)। এটি একটি হরমোনজনিত সমস্যা, যা সময়মতো নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্বসহ নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিসিওএসের প্রভাব শুধু শরীরের ভিতরেই নয়, তার স্পষ্ট ছাপ পড়ে ত্বক ও চুলেও। তাই কিছু ত্বকজনিত লক্ষণ আগেভাগে চিনে ফেলতে পারলে সতর্ক হওয়া সহজ হয়।
আরও পড়ুন:Bird Flu: ঠান্ডা বাড়তেই সক্রিয় H5N1, বার্ড ফ্লুতে সতর্ক ভারতের একাধিক রাজ্য
চর্মরোগ চিকিৎসক কৌশিক লাহিড়ীর মতে, শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে তার প্রথম প্রতিফলন দেখা যায় মুখের ত্বকে। পিসিওএসে (PCOS Symptoms) আক্রান্ত অনেক নারীরই হঠাৎ করে ব্রণের সমস্যা বেড়ে যায়। সাধারণ ব্রণের সঙ্গে এর পার্থক্য হল— এই ব্রণ বেশি দেখা যায় চোয়াল, থুতনি, গলা, পিঠ বা ঘাড়ের অংশে। একই সঙ্গে ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত হয়ে পড়ে, কারণ সেবাম নিঃসরণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
পিসিওএসের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হল শরীরে অপ্রয়োজনীয় লোমের আধিক্য। ঠোঁটের উপরে, চিবুক, বুক, নাভির নীচে কিংবা উরুতে মোটা ও গাঢ় লোম দেখা দিলে তা হরমোনের গোলমালের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যা সাধারণ শ্যাম্পু ব্যবহারেও কমে না।
চুল পড়াও পিসিওএসের একটি সাধারণ কিন্তু উপেক্ষিত উপসর্গ। হঠাৎ করে চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, কপাল বা মাথার সামনের দিকের চুল কমে যাওয়া, মাঝখানের সিঁথি চওড়া হয়ে যাওয়া— এই লক্ষণগুলি অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক নারী একে শুধু স্ট্রেস বা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান, যা পরে জটিল আকার নিতে পারে।
এ ছাড়া গলা, বগল, কুঁচকি কিংবা স্তনের নীচের ত্বক যদি ধীরে ধীরে মোটা ও কালচে ভেলভেটের মতো হয়ে যায়, তবে সেটিকে বলে অ্যাকানথোসিস নিগ্রিক্যানস। এটি ইনসুলিন রেজ়িস্ট্যান্সের সঙ্গে যুক্ত এবং পিসিওএসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। একই ভাবে গলা বা বগলের আশেপাশে ছোট ছোট ঝুলন্ত মাংসপিণ্ড বা স্কিন ট্যাগের সংখ্যাও বেড়ে যেতে পারে।
তবে চিকিৎসকদের স্পষ্ট মত, শুধু ত্বকের লক্ষণ দেখেই পিসিওএস নিশ্চিত করা যায় না। কিন্তু যদি উপরোক্ত উপসর্গগুলির মধ্যে দু’টি বা তিনটি একসঙ্গে দেখা দেয় এবং তার সঙ্গে ঋতুস্রাব অনিয়মিত থাকে, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সময়মতো পরীক্ষা, সঠিক চিকিৎসা এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই পিসিওএসকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
