নিউজ পোল ব্যুরো: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ৪০ বছরে পা দিলেন দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। মডেলিং দিয়ে শুরু হওয়া যাত্রা থেকে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী হয়ে ওঠা এই দীর্ঘ সফরে তিনি শুধু বক্স অফিসের সাফল্যই অর্জন করেননি, গড়ে তুলেছেন সামাজিক দায়বদ্ধতার এক শক্তিশালী পরিচয়ও। অভিনয়ের বাইরে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে তিনি বারবার দেখিয়েছেন, জনপ্রিয়তা মানেই নীরবতা নয়। ২০০৭ সালে ‘ওম শান্তি ওম’ ছবিতে শাহরুখ খানের বিপরীতে অভিষেকের পর থেকেই নজর কেড়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘পিকু’, ‘বাজিরাও মস্তানি’, ‘ছপক’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অভিনয়-দক্ষতার পরিধি বিস্তৃত করেছেন তিনি। তবে তাঁর প্রভাব সীমাবদ্ধ থেকেছে না রুপোলি পর্দায়। সমাজের নানা অসংগতির বিরুদ্ধে নিজের কণ্ঠকে ব্যবহার করেছেন সচেতনভাবে।
২০১৫ সালে অবসাদের সঙ্গে নিজের লড়াইয়ের কথা প্রকাশ্যে এনে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশে নতুন আলোচনা শুরু করেছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। ‘লিভ লাভ লাফ’ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি আজও মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভোগা মানুষদের পাশে দাঁড়ান। মানসিক অসুস্থতা যে লজ্জার নয়, বরং চিকিৎসাযোগ্য—এই বার্তাই তিনি ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও। নারী ও পুরুষের পারিশ্রমিক বৈষম্য নিয়েও তাঁর অবস্থান বরাবর স্পষ্ট। কম পারিশ্রমিকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের কাজের মূল্য নির্ধারণের অধিকার যে একজন নারীরও আছে, তা কার্যত প্রমাণ করেছেন দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone) একই ভাবে আট ঘণ্টার বেশি কাজ না করার শর্তে ছবি ছাড়াও তাঁর পেশাদার সিদ্ধান্ত আজ অনেক শিল্পীকেই অনুপ্রাণিত করছে।
বিশ্ব নাগরিকত্ব ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্নেও তিনি ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শাড়ি হোক বা আবু ধাবির গ্র্যান্ড মসজিদে হিজাব—সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানানোর বার্তাই দিয়েছেন দীপিকা পাড়ুকোন (Deepika Padukone)। পাশাপাশি এনআরসি ও সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের সময় জেএনইউ-তে নীরব উপস্থিতি তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতার দিকটিও তুলে ধরে। ৪০ বছরে পা দিয়ে দীপিকা আজ শুধু একজন সফল অভিনেত্রী নন, তিনি সাহসী অবস্থান ও সামাজিক দায়িত্ববোধের এক শক্তিশালী প্রতীক।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
