নিউজ পোল ব্যুরো: পুণ্যতীর্থ গঙ্গাসাগর মেলায় প্রতি বছরই দেখা যায় নানা রকম সাধু-সন্তদের বিচিত্র জীবনযাপন ও অভিনব কর্মকাণ্ড। এবছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সারা শরীরে ছাইভস্ম মাখা, মাথায় বিশাল জটা, হাতে গাঁজার কলকে—এই চিরাচরিত দৃশ্যের মাঝেই চোখে পড়ল একেবারে অন্যরকম ছবি। কপিলমুনির মন্দির সংলগ্ন আখড়াগুলির একটির সামনে অদ্ভুত ভিড়। কাছে যেতেই বিস্ময়—ভক্তদের হাতে হাতে ‘প্রসাদ’ হিসেবে তুলে দেওয়া হচ্ছে গরম গরম পকোড়া!
আরও পড়ুন:Weather Update : দক্ষিণবঙ্গে শীতের আমেজ কমলেও উত্তরে কুয়াশা ও ঠান্ডা অব্যাহত, IMD পূর্বাভাস
এই সাধুবাবার নাম পুলিন ঠাকুর, যিনি ইতিমধ্যেই পরিচিত হয়ে উঠেছেন ‘পকোড়া বাবা’ নামে। সাধারণত মন্দির বা আখড়ায় প্রসাদ বলতে যেখানে মিছরি, বাতাসা বা মিষ্টির চল, সেখানে নোনতা পকোড়া কেন? প্রশ্নের উত্তরে পুলিন ঠাকুর নিজেই জানালেন তাঁর ভাবনার কথা। বর্তমান সময়ে ডায়াবেটিস একটি বড় সমস্যা। অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর—এই বার্তাই তিনি দিতে চান ভক্তদের। তাই মিষ্টির বদলে সম্পূর্ণ নিরামিষ, স্বাস্থ্যসম্মত নোনতা পকোড়াই তাঁর প্রসাদ।
শীতের রাতে গরম পকোড়া পেয়ে খুশি পুণ্যার্থীরাও। কেউ আশীর্বাদ চাইতে এলে তাঁকে খালি হাতে ফেরানো হয় না। কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে সারাদিন ধরে পকোড়া ভাজা চলে আখড়ায়। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পুলিন ঠাকুর এই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলায় এসেছেন। প্রায় পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দেশের নানা ধর্মীয় স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
তবে গঙ্গাসাগরের চমক এখানেই শেষ নয়। নাগা সাধুদের ডেরায় দেখা মিলেছে ‘লাইট বাবা’ নামে পরিচিত জুনা আখড়ার চেতন গিরির। সারা শরীরে ছাই মেখে তার ওপর এলইডি লাইট জড়িয়ে বসে রয়েছেন তিনি। আবার কোথাও এক নাগা সাধু ভক্তদের জন্য রেখেছেন কিউআর কোড—সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দান গ্রহণের জন্য। সব মিলিয়ে গঙ্গাসাগর মেলা যেন আজ আধ্যাত্মিকতা আর আধুনিকতার এক অদ্ভুত মেলবন্ধন। সত্যিই মনে হয়—এ যেন রথ দেখা আর কলা বেচা, দুটোই একসঙ্গে।
