নিউজ পোল ব্যুরো:২০০৫ সালের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের দফা সংখ্যা নিয়ে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল, তা ফের নতুন করে চর্চায় উঠে এসেছে ২০২৬ সালের ভোটকে (West Bengal Assembly Election 2026) কেন্দ্র করে। পরের বছর বিধানসভা নির্বাচন—এই বাস্তবতায় ভোট কত দফায় হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/18/nandigram-cooperative-election-tmc-clean-sweep-bjp-setback/
এক বছর আগে থেকেই তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মুকুল রায় দাবি তুলেছিলেন, বাংলায় যেন যত বেশি সম্ভব দফায় ভোট হয়। একই দাবি উঠেছিল ২০১১ সালের তথাকথিত ‘পরিবর্তন’-এর নির্বাচনের সময়েও। যদিও শেষ পর্যন্ত সে বার ভোট হয়েছিল ৬ দফায়। তার পরবর্তী দু’টি বিধানসভা নির্বাচনেও বিরোধীরা মূলত এই দফা সংখ্যার সূত্রকেই আঁকড়ে ধরেছিল এবং নির্বাচন কমিশনের অবস্থানও মোটের উপর একই ছিল।
কিন্তু ২০২৬ সালের ভোটকে (West Bengal Assembly Election 2026) সামনে রেখে সেই সমীকরণে উলটপুরাণের ইঙ্গিত স্পষ্ট। এ বার দফা সংখ্যা কমতে পারে—এই জল্পনা শুধু রাজনৈতিক দফতর বা কমিশনের অন্দরে সীমাবদ্ধ নেই, ‘বাসুদার চায়ের দোকান’ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে এই হিসাবনিকাশ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
রাজ্য বিজেপির দফতর সূত্রে জানা যাচ্ছে, দলের একাংশ চাইছে বাংলায় বিহারের মডেল অনুসরণ করা হোক। অতীতে বিহারেও বহু দফায় ভোট হলেও ২০২০ সালে সেখানে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ৩ দফায়, আর ২০২৫ সালে তা নেমে আসে মাত্র ২ দফায়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মতে, পশ্চিমবঙ্গেও যদি ২ দফায় ভোট হয়, তা হলে দল সাংগঠনিক ভাবে সুবিধা পাবে। তাদের যুক্তি, বেশি দফায় ভোট মানেই শাসক দলের সুবিধা—যে এলাকায় ভোট হয়ে যায়, সেখান থেকে ক্যাডার অন্য এলাকায় সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে কর্মীদের মাঠে ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, তৈরি হয় ক্লান্তিও।
এই ভাবনার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের রাজ্য দফতরের একাংশের মতও খুব একটা আলাদা নয় বলেই সূত্রের খবর। মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের অভিমত, ৭ বা ৮ দফায় ভোট করানো অপ্রয়োজনীয় ঝক্কি। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘোরাতে হয়, বেড়ে যায় প্রশাসনিক চাপও। তার চেয়েও বড় কথা, যে কারণে অতীতে দফা বাড়ানো হয়েছিল—ছাপ্পা বা বুথ দখল রোখা—তা পুরোপুরি সফল হয়নি। সেই কারণেই ২ থেকে ৩ দফাতেই ভোট করানো যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করছে কমিশনের একাংশ।
২০২১ সালে বাংলায় ৮ দফায় ভোট হওয়ায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, এত দফায় ভোট করানো বিজেপির চক্রান্ত। কিন্তু এ বার ভোটের দফা কমানোর আলোচনা যখন জোরালো হচ্ছে, তখন তৃণমূল কার্যত পরিস্থিতি মাপছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, কমিশন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেওয়া ছাড়া বিশেষ কোনও বিকল্প তাদের হাতে নেই।
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা নিয়েও চলছে জল্পনা। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়েছিল ৫ মার্চ, আর ২০২১ সালে তা হয়েছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। সেই হিসেবে এ বারও ফেব্রুয়ারির শেষ বা মার্চের গোড়ায় নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। জানা গিয়েছিল, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে এবং তার এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে। তবে এসআইআর প্রক্রিয়ায় কিছু লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ধরা পড়ায় সেই ডেডলাইন রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ ৭ থেকে ১০ দিন পিছোলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগ বা মার্চের শুরুতেই ভোটের ঘোষণা হতে পারে। সাধারণত নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথম দফার ভোটের জন্য অন্তত এক মাস সময় দেওয়া হয়। সেই হিসাব মানলে প্রথম দফার ভোট হতে পারে এপ্রিলের গোড়ায়। আর শেষ পর্যন্ত যদি দুই দফাতেই ভোট হয়, তা হলে এপ্রিলের মধ্যেই ফল ঘোষণার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
