নিউজ পোল ব্যুরো:সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi on Bengal investment) জনসভাকে ঘিরে বাংলার মানুষের প্রত্যাশা ছিল যথেষ্ট। বিশেষ করে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট ঘোষণা আসে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে রাজনৈতিক মহল। কিন্তু সভা শেষ হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়—ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা শোনালেও বর্তমানের জন্য কোনও নতুন ঘোষণার বার্তা দিলেন না প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/18/bmc-election-bjp-record-win-thackeray-shinde-mayor-race/
প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi on Bengal investment) বক্তব্যে উন্নয়নের যে রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, তার সবটাই কার্যত শর্তসাপেক্ষ। তাঁর সাফ বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তবেই সেই উন্নয়ন বাস্তবায়িত হবে। অর্থাৎ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল না হলে এই প্রতিশ্রুতিগুলি যে কেবল বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সে ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
এদিনের সভায় বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব—সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য যে দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন, সেগুলিতে কার্যত কোনও সিলমোহর দেননি প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে সিঙ্গুরে টাটা কারখানা পুনঃস্থাপনের প্রশ্নে তাঁর নীরবতা নজর কেড়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের দাবি ছিল, নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরেই সিঙ্গুরে ফের টাটার কারখানা ফিরবে। এমনকি সভামঞ্চে উপস্থিত থেকেও শমীক ভট্টাচার্য শিল্প ফেরার দাবি তোলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সেই প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ অনুল্লেখিত থাকে।
ফলে স্বাভাবিকভাবেই হতাশ হয়েছেন সিঙ্গুরের স্থানীয় মানুষজন। তাঁদের আশা ছিল, টাটা কারখানা বা শিল্পায়ন নিয়ে কোনও স্পষ্ট ঘোষণা সিঙ্গুর থেকেই আসবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দেন। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ঠিক না হলে বিনিয়োগ আসবে না। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে মাফিয়াদের প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে এবং সর্বত্র ‘সিন্ডিকেট ট্যাক্স’ চালু রয়েছে। এই সিন্ডিকেট সংস্কৃতি ও মাফিয়াবাদ বন্ধ করার ‘মোদীর গ্যারান্টি’ দেন তিনি।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় উদ্যোগে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রাজা রামমোহন রায় ও স্বামী বিবেকানন্দের জন্মজয়ন্তী জাতীয় স্তরে পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজেপি ‘বিকাশ ও ঐতিহ্য’-র সমন্বয়েই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন ঘটাতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি।
যদিও সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের কড়া সমালোচনা করা হলেও রাজ্য সরকারের কোনও প্রকল্পের সরাসরি সমালোচনা শোনা যায়নি। এমনকি বিজেপি ক্ষমতায় এলে সেই প্রকল্পগুলি চালু থাকবে কি না, সে বিষয়েও কোনও স্পষ্ট বক্তব্য রাখেননি প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে—নদী, উপকূলরেখা, উর্বর জমি এবং প্রতিটি জেলার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়েই উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। তিনি জানান, ‘এক জেলা, এক পরিকল্পনা’ মডেলে রাজ্যের উন্নয়ন করতে চায় দল, যাতে প্রতিটি জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হন।
তবে সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোর কোনও বাস্তব রূপরেখা বা টাটা কারখানা নিয়ে নির্দিষ্ট ঘোষণা না আসায় হুগলি জেলার মানুষ বিশেষভাবে আকৃষ্ট হননি বলেই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। তাঁদের মতে, এদিনের সভায় যা বলা হয়েছে, তার অধিকাংশই ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি—বর্তমানের কোনও স্পষ্ট দিশা নয়।
সব মিলিয়ে সিঙ্গুরের সভা থেকে শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে প্রত্যাশিত বার্তা যে মিলল না, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
