নিউজ পোল ব্যুরো:চলতি বছরই অসমে বিধানসভা নির্বাচন। ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। কংগ্রেস তাদের ‘মুখ্যমন্ত্রী মুখ’ হিসেবে গৌরব গগৈকে সামনে আনার পর থেকেই আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়েছে বিজেপি। সেই আবহেই ফের ‘পাক-যোগ’ প্রসঙ্গ তুলে কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈকে নিশানা করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma attacks Gaurav Gogoi)।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/01/18/west-bengal-assembly-election-2026-phases-speculation/
রবিবার কাজিরাঙা এলিভেটেড করিডোর প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মঞ্চ থেকেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “আপনি বিরোধিতা করতে চাইলে করতে পারেন। কিন্তু অসম এখন আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখছে। আমরা সেই স্বপ্ন পূরণ করবই। অসমের মানুষ কোনও পাকিস্তানের এজেন্টের কাছে মাথা নত করবে না। কোনও অচেনা বা বহিরাগত শক্তির কাছেও নয়।”
হিমন্ত বিশ্বশর্মা (Himanta Biswa Sarma attacks Gaurav Gogoi) আরও দাবি করেন, রাজ্যের স্বার্থ রক্ষায় বিজেপি সরকার কঠোর পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “বাটাদ্রবাকে দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে। অসমের জমি, সংস্কৃতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমরা আপসহীন।”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
এই রাজনৈতিক আক্রমণের মধ্যেই বিজেপির তরফে গৌরব গগৈয়ের স্ত্রী এলিজাবেথ কলবোর্নকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া অভিযোগ করেন, এলিজাবেথ কলবোর্নের নাকি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, গগৈয়ের স্ত্রী দীর্ঘদিন পাকিস্তানে কাজ করেছেন এবং পাকিস্তানের প্ল্যানিং কমিশনের প্রধান উপদেষ্টা তৌকির শেখের অধীনে ইসলামাবাদে কর্মরত ছিলেন।
এছাড়াও বিজেপির অভিযোগ, আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্কিত মার্কিন ধনকুবের জর্জ সোরসের একটি সংস্থার সঙ্গেও নাকি এলিজাবেথ কলবোর্নের যোগাযোগ রয়েছে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে ইতিমধ্যেই অসম প্রশাসনের তরফে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করা হয়েছে। ওই সিট পাকিস্তানের নাগরিক আলি তকির শেখের সঙ্গে গৌরব গগৈয়ের স্ত্রীর সম্ভাব্য যোগাযোগ বা যোগসূত্র খতিয়ে দেখবে।
এখানেই শেষ নয়। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার আরও অভিযোগ, গৌরব গগৈ নিজেও নাকি আইএসআইয়ের আমন্ত্রণে একাধিকবার পাকিস্তান সফর করেছিলেন। যদিও কংগ্রেসের তরফে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে অসমে বিজেপি ও কংগ্রেসের রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা স্পষ্ট। ‘পাক-যোগ’ বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্যের ভোট-রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
