Mid-Day Meal: শিশুদের পাতে খাবার না কি কাগজে হিসেব? ২৪৮ দিনের মিড ডে মিল ক্যালেন্ডার ঘিরে বিতর্ক

রাজ্য স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের জন্য মিড ডে মিল সংক্রান্ত নতুন ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশন দফতর। ওই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, বছরে মোট ২৪৮ দিন পড়ুয়াদের মিড ডে মিল দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘোষণাকে ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, কাগজে-কলমে ২৪৮ দিনের হিসেব দেখানো হলেও বাস্তবে পড়ুয়ারা এত দিন খাবার পায় না।

আরও পড়ুন:Kolkata Knight Riders : কেকেআরে যোগ দিলেন দিশান্ত ইয়াগনিক

শিক্ষকদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি ক্যালেন্ডার মেনে বছরে প্রায় ৬৫ দিন স্কুলে ছুটি থাকে। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত গরম, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রশাসনিক কারণে ঘোষিত আকস্মিক ছুটিও যোগ হয়। ফলে বাস্তবে স্কুল খোলা থাকে অনেক কম দিন। এই অবস্থায় ২৪৮ দিনের মিড ডে মিলের হিসেব দেখিয়ে প্রকৃত পরিস্থিতিকে আড়াল করা হচ্ছে বলেই অভিযোগ। তাই প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়াদের জন্য সাধারণ ছুটি বা অতিরিক্ত ছুটির দিনগুলিতে শুকনো খাবার দেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষক সংগঠনগুলি।bবঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, এই ধরনের নির্দেশিকা আসলে ঘুরপথে পড়ুয়াদের প্রাপ্য খাবার থেকে বঞ্চিত করার সামিল। সরকারের কাছে সারা বছরের সমস্ত ছুটির হিসেব থাকলেও কেবলমাত্র ২৪৮ দিনের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত সংশোধন করা দরকার বলেই তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, প্রধান শিক্ষকদের একাংশের বক্তব্য কিছুটা ভিন্ন। তাঁদের দাবি, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের বার্ষিক সূচি অনুযায়ী সারা বছর মিলিয়ে মোট ২৪৮ দিন ক্লাস হওয়ার কথা। এর মধ্যে রয়েছে ৫২টি রবিবার। পাশাপাশি দুর্গাপুজো, শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি মিলিয়ে প্রায় ২০ দিনের বেশি ছুটি থাকে। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মিড ডে মিলের জন্য বরাদ্দ অর্থ সবটাই কি খরচ হচ্ছে, না কি তার একটা অংশ অব্যবহৃত থেকে যাচ্ছে?

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

রাজ্যের প্রধান শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, গ্রামবাংলার বহু স্কুলপড়ুয়া শিশু মিড ডে মিলের উপর নির্ভরশীল। তাই সারা বছর তাদের পুষ্টিকর ডাল-ভাত ও অন্যান্য খাবার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এই দাবি বারবার সরকারের কাছে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, পুজো, খেলা বা মেলার জন্য ক্লাবগুলিকে অনুদান বাড়ানোর সময় সরকারের বাজেটের অভাব হয় না। অথচ শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের প্রশ্ন উঠলেই কেন্দ্র-রাজ্যের যৌথ প্রকল্পের দায় দেখিয়ে দায় এড়ানো হয়। এই দ্বিচারিতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলেই মত শিক্ষকদের।