নিউজ পোল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এসআইআর (SIR) শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তথ্য–প্রমাণ জমা দেওয়ার পর বহু ভোটার এখনও কোনও প্রামাণ্য রসিদ পাচ্ছেন না—এমন অভিযোগে উত্তাল শহর কলকাতা থেকে শুরু করে জেলার বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্র। ভোটারদের দাবি, রসিদ না পেলে ভবিষ্যতে তাঁরা কীভাবে প্রমাণ করবেন যে নির্ধারিত দিনে শুনানিতে হাজির ছিলেন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন?
আরও পড়ুন: Weather Update : ঘন কুয়াশার সতর্কতা রাজ্যজুড়ে, সোমবার থেকে ৩ ডিগ্রি বাড়তে পারে তাপমাত্রা
নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) এসআইআর শুনানি প্রক্রিয়াকে ধাপে ধাপে পরিচালনা করছে। প্রথম দফায় যাঁদের ম্যাপিং সংক্রান্ত সমস্যা ছিল, তাঁদের ডাকা হয়। বর্তমানে যাঁদের তথ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ রয়েছে—যেমন নামের বানান, বয়স বা ঠিকানার অসামঞ্জস্য—তাঁদের শুনানিতে হাজির হতে বলা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল, শুনানিতে তথ্য জমা দিলে ভোটারকে রসিদ দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই নির্দেশ কার্যকর হচ্ছে না বলেই অভিযোগ। ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউট শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হওয়া ভোটার তুষারকান্তি দে জানান, নামের বানান ভুল থাকায় তাঁকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু রসিদ চাইলে আধিকারিকরা জানান, তাঁদের কাছে এ বিষয়ে কোনও নির্দেশিকা নেই। শেষ পর্যন্ত বিএলও (BLO) তাঁর হিয়ারিং নোটিসে সই করে দেন—কিন্তু সেটিই কি যথেষ্ট প্রমাণ? একই প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণা ভোটার গীতা সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও রসিদ না দিলে, আমি হাজির ছিলাম—তার প্রমাণ কোথায়?” এই উদ্বেগ শুধু কলকাতাতেই নয়, জেলার বিভিন্ন শুনানি কেন্দ্রেও একই ছবি। রানাঘাটের ভোটার প্রহ্লাদ পাত্রের অভিযোগ, রসিদের কথা তুললেই ভোটারদের হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে যদি বলা হয় তিনি নথি জমা দেননি, তাহলে তার বিরুদ্ধে তিনি কী প্রমাণ দেবেন?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিএলও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রসিদ দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেয়নি বলেই তাঁরা শুধু হিয়ারিং নোটিসে সই করছেন। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ধাপের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা কার্যকর হতে পারে। কিন্তু তাতে আগেই যাঁরা কাগজ জমা দিয়েছেন, তাঁদের প্রমাণের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।উল্লেখযোগ্যভাবে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে শাসকদলের সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ দুই সাংসদ সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলাতেই ভোটারদের রসিদ দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় আদালত—যার বাস্তবায়ন নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
