নিউজ পোল ব্যুরো: চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকার জন্য সরাসরি রাজ্য সরকারকেই দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রয়োজনীয় অনুমতি না দেওয়ায় নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণ কাজ এগোচ্ছে না। কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পরদিনই এই ইস্যুতে সরব হন রেলমন্ত্রী।
চিংড়িঘাটা মোড়ে প্রায় ৩৬৬ মিটার অংশে মেট্রোর কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। এই ছোট অংশের জন্যই গোটা অরেঞ্জ লাইনের উদ্বোধন আটকে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই জায়গায় কাজ করতে গেলে ইএম বাইপাসে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার সেই অনুমতি দিতে রাজি নয় বলেই কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন।
এর আগে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য সরকার ও মেট্রো কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান সূত্র বের করবে। সেই নির্দেশ মেনে রাজ্য, কেন্দ্র, নির্মাণকারী সংস্থা আরভিএনএল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে একাধিক বৈঠকও হয়। তবে বৈঠক হলেও বাস্তবে চিংড়িঘাটায় কাজের কোনও অগ্রগতি হয়নি। কিছুদিন আগে রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানায়, এই মুহূর্তে রাস্তা বন্ধ করার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় এবং জানুয়ারি মাসেও কাজ শুরু করা যাবে না। ফেব্রুয়ারির আগে কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করা হয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তবে শেষ শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের যুক্তি খারিজ করে জানায়, জানুয়ারি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে। কিন্তু জানুয়ারি পেরিয়ে ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও এখনও পর্যন্ত চিংড়িঘাটা অংশে কোনও কাজ শুরু হয়নি। এই প্রসঙ্গে অশ্বিনী বৈষ্ণব দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদীর আমলে কলকাতা মেট্রোর সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোর মোট দৈর্ঘ্য বেড়েছে ২৭ কিলোমিটার, অথচ ২০১৪ সালের পর গত ১১ বছরে একাই ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো লাইনের সম্প্রসারণ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজ্য সরকার সহযোগিতা করলে চিংড়িঘাটার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে কলকাতা মেট্রোর তিনটি লাইনের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা, পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি টাকা এবং গ্রিন লাইনের জন্য ২৯ কোটি টাকা। তবে ব্লু লাইন মেট্রোর জন্য এবার কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।
