নিউজ পোল ব্যুরো: মুখের ত্বকের পোরস (Facial Pores) বা লোমকূপ বড় হয়ে গেলে ত্বক রুক্ষ, অমসৃণ ও প্রাণহীন দেখায়। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, ধুলোবালি জমে থাকা, মেকআপ ঠিকমতো পরিষ্কার না করা, হরমোনের পরিবর্তন এবং ত্বকের সঠিক যত্নের অভাব—এই সব কারণেই মূলত মুখের পোরস বড় হয়ে যায়। যদিও পোরস পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এগুলো ছোট করা যায় এবং চোখে পড়ার মাত্রা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
আরও পড়ুন:Toy Train: পাহাড়ের রেলপথে বাঁধা যাবে প্রেমের গাঁটছড়া, দার্জিলিং হিমালয়ান রেলের নতুন উদ্যোগ
প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ত্বক পরিষ্কার রাখা। দিনে অন্তত দু’বার হালকা ও ত্বকের উপযোগী ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া জরুরি। এতে অতিরিক্ত তেল, ঘাম ও ময়লা পরিষ্কার হয় এবং পোরস (Facial Pores) বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে। তবে বারবার মুখ ধোয়ার অভ্যাস ত্বককে শুষ্ক করে দিতে পারে, ফলে উল্টো তেল নিঃসরণ বেড়ে যায়। তাই পরিমিত পরিষ্কারই সবচেয়ে ভালো। সপ্তাহে এক বা দুই দিন হালকা স্ক্রাব ব্যবহার করলে মৃত কোষ দূর হয় এবং লোমকূপ পরিষ্কার থাকে।
ঠান্ডা জলের ব্যবহারও পোরস ছোট করতে সহায়ক। মুখ ধোয়ার পর শেষবার ঠান্ডা জল দিয়ে মুখ ধুলে ত্বক টানটান হয় এবং পোরস কম চোখে পড়ে। চাইলে পরিষ্কার কাপড়ে বরফ মুড়ে অল্প সময়ের জন্য মুখে লাগানো যেতে পারে। এতে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয় এবং ত্বক সতেজ দেখায়। তবে কখনওই সরাসরি বরফ ত্বকের উপর দীর্ঘ সময় রাখা উচিত নয়।
ঘরোয়া উপায়ে পোরসের যত্ন নিতে মুলতানি মাটি অত্যন্ত কার্যকর। মুলতানি মাটির সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে সপ্তাহে এক দিন মুখে লাগালে অতিরিক্ত তেল শোষিত হয় এবং ত্বক পরিষ্কার থাকে। ডিমের সাদা অংশ মুখে লাগিয়ে শুকিয়ে ধুয়ে ফেললেও ত্বক টানটান হয় এবং পোরস সাময়িকভাবে ছোট দেখায়। পাশাপাশি অ্যালোভেরা জেল নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক আর্দ্র থাকে এবং পোরসের সমস্যা ধীরে ধীরে কমে।
অনেকেই মনে করেন তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজারের প্রয়োজন নেই, কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। হালকা, তেলমুক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ কমে। পাশাপাশি বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা দরকার, কারণ সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হলে পোরস আরও বড় দেখাতে পারে।
সুস্থ ত্বকের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত জল পান অত্যন্ত জরুরি। তাজা ফল, শাকসবজি ও পর্যাপ্ত জল ত্বককে ভিতর থেকে ভালো রাখে। তবে যদি পোরসের সমস্যা খুব বেশি হয় বা ত্বকে অন্য কোনও জটিলতা দেখা দেয়, সে ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
