নিউজ পোল ব্যুরো: মুম্বই হাই কোর্টের (Bombay High Court) এক তাৎপর্যপূর্ণ রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র প্রশাসনিক ফরম্যাটে আগে থেকে বাবার নাম, পদবি বা জাত (caste) উল্লেখের নিয়ম ছিল বলে কোনও শিশুকে তা বহন করতে বাধ্য করা যাবে না, যদি সে একক মায়ের (single mother) তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে থাকে। ১২ বছরের এক কিশোরীর স্কুলের নথিতে পরিচয় সংশোধনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেয় আদালত। ঔরঙ্গাবাদ বেঞ্চে বিচারপতি বিভা কাঁকানওয়াড়ি ও হিতেন ভেনেগাভকর এই রায় দেন। আদালত স্পষ্ট জানায় (Bombay High Court), সন্তানের নাগরিক পরিচয় নির্ধারণে একক মাকে পূর্ণাঙ্গ অভিভাবক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সহানুভূতি নয়, বরং সংবিধানসম্মত দায়বদ্ধতা। রায়ের কপি ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ্যে আসে।
আরও পড়ুন : Darjeeling Travel : ভিড় এড়িয়ে দার্জিলিং! শান্ত পাহাড়ি ছুটির জন্য শহরের কাছেই তিন নির্জন ঠিকানা
আদালত পর্যবেক্ষণে বলে (Bombay High Court), পিতৃতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা থেকে সাংবিধানিক পছন্দের দিকে সমাজ ও আইনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনই এই রায়ের মূল ভিত্তি। যে সমাজ আধুনিকতার পথে এগোচ্ছে, সেখানে সন্তানের সমস্ত দায়িত্ব মায়ের উপর বর্তালেও পরিচয়ের ক্ষেত্রে বাবার নাম বাধ্যতামূলক করা বৈষম্যমূলক। আদালতের ভাষায়, কোনও শিশু যদি একমাত্র মায়ের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠে, তবে রাষ্ট্রের নির্ধারিত পরিচয়ে তাকে অনুপস্থিত পিতার নাম বহন করতে বাধ্য করা যায় না। মামলাটি দায়ের করে ওই নাবালিকা, যে স্কুলের নথিতে নিজের নাম সংশোধন এবং জাতের এন্ট্রি ‘Maratha’ থেকে ‘Scheduled Caste-Mahar’ করার আবেদন জানায়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার মা-ই একমাত্র স্বাভাবিক অভিভাবক (natural guardian) এবং পিতার সঙ্গে তার কোনও কার্যকর বা আইনি সম্পর্ক নেই। অতীতে মা পিতার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও পরে মীমাংসা হয় এবং সন্তানের স্থায়ী হেফাজত মায়ের কাছেই থাকে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রথমে আবেদন খারিজ করলেও হাই কোর্ট (Bombay High Court) জানায়, মহারাষ্ট্র সরকার নিজেই পরিচয়পত্রে মায়ের নামের গুরুত্ব স্বীকার করেছে। তাই অধস্তন কর্তৃপক্ষ নীতিগত অবস্থান অগ্রাহ্য করতে পারে না। আদালত আরও বলে, সংবিধান (Constitution) প্রত্যেককে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার অধিকার দেয়, যার মধ্যে এমন পরিচয়ের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত, যা অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনুপস্থিত অভিভাবকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় না। শিক্ষা সংক্রান্ত নথি একজন মানুষের সারা জীবনের সঙ্গী—এই মন্তব্য করে আদালত জানায়, বাবার নাম অপরিহার্য কিন্তু মায়ের নাম ঐচ্ছিক—এমন প্রশাসনিক মনোভাব আসলে নথির মাধ্যমে বৈষম্য পুনরুৎপাদন করে। শেষ পর্যন্ত আদালত স্কুলকে প্রয়োজনীয় সংশোধনের নির্দেশ দেয়।
