Cancer Treatment: ‘ক্যান্সারের নেই আনসার’ মিথ ভাঙছেন হোমিওপ্যাথি ডাঃ প্রকাশ মল্লিক, ‘মল্লিক মেথড’-এ ভরসা বাড়চ্ছে মানুষের

স্বাস্থ্য

কর্কট রোগের কামড় প্রতিরোধ করছেন বহু মানুষ। ক্যান্সার চিকিৎসায় অ্যাডভান্সড হোমিওপ্যাথি মিরাকল ঘটাচ্ছে বলে জানাচ্ছেন প্রবীণ হোমিওপ্যাথি বিশেষজ্ঞ ডাঃ প্রকাশ মল্লিক

‘ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল হয় না’ এই ধারনা কি হোমিওপ্যাথি ভেঙে দিচ্ছে?
উত্তরে ডাঃ মল্লিক বললেন ক্যান্সার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়। রোগীর বাঁচার সম্ভাবনা যদি তিন বছর থাকে কেমোথেরাপি দিয়ে সেই সময়সীমা বাড়ানো সম্ভব এই ধারনা ঠিক। তবে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসায় ‘এক্সপেনশন অফ লাইফ’ বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সার সারিয়ে তুলেছে এমন উদাহরণ অনেক রয়েছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে ১০-১২ বছর পর্যন্ত ভাল আছেন। ক্যান্সারের খুব জটিল আবস্থায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শুরু করলেও রোগীকে অনেকটা সুস্থ করে দেওয়া যায়। অন্য পদ্ধতিতে চিকিৎসায় যেখানে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম সেখানে হোমিওপ্যাথিতে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে সেটা নির্ভর করছে কোন-কোন ক‍্যান্সারে আক্রান্ত ও কোন স্টেজে চিকিৎসা করছে তার ওপরে। প্রস্টেট ক্যান্সার, ইউরিনারি ব্লাড ক্যান্সার, ব্রেন টিউমার, অস্টিওসারকোমা, স্কিন ক্যান্সার, সাভিক্স ক্যান্সারের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিতে চিকিৎসা সবচেয়ে বেশি কাজ দেয়। তবে যে রোগীর ক্যান্সার হয়েছে তার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে রোগ কতটা সারবে। যেমন রোগীর ডায়াবেটিস থাকলে তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কমে যায়। সেক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি ভাল কাজ দিচ্ছে।

কোন স্টেজে ক্যান্সার ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি?
উত্তরে ডাঃ মল্লিক বললেন ক্যান্সার সারাতে চাইলে সঠিক শনাক্তকরণ হওয়া জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার অনুমান করলেও তা ক্যান্সার নাও হতে পারে। আবার ক্যান্সারের লক্ষণ নেই কিন্তু হতেই পারে ক্যান্সার। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার নিজে থেকে ভালও হয়ে যেতে পারে। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ক্যান্সারের প্রথম স্টেজে শুরু করলে উপকার অবশ্যই পাওয়া যায়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা জটিলতর হলে চিকিৎসা শুরু হয়। এক্ষেত্রেও হোমিওপ্যাথি কাজ দেয়। প্রি-ক্যান্সারাস স্টেজে কেউ যদি হোমিওপ্যাথি করেন সেক্ষেত্রে ক্যান্সার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব।

ট্র্যাডিশনাল হোমিওপ্যাথি ও আপনার চিকিৎসা পদ্ধতি কি ভিন্ন?
উত্তরে ডাঃ মল্লিক বললেন প্রথম অবস্থায় ক্যান্সারের সঠিক ডায়াগনস্টিক হোমিওপ্যাথি কিংবা অ্যালোপ্যাথি সবক্ষেত্রেই এক। প্রথম অবস্থায় হোমিওপ্যাথি অনেক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও নানা পরীক্ষা করে অতীতের হোমিওপ্যাথির ধারনা বদলে বর্তমান সফল চিকিৎসার পথ দেখাচ্ছে আমাদের ‘মল্লিক মেথড’। অন্যান্য হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মতো ‘মল্লিক মেথড’ হোমিওপ্যাথিতে রোগীর সম্পূর্ণ লক্ষণ দেখে চিকিৎসা করা হয় না। যে ক্যান্সার হয়েছে সেই সম্পর্কিত কী-কী লক্ষণ তা বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয়। কোনও নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা চিকিৎসায় এই চিকিৎসা পদ্ধতি আবদ্ধ নয়। রোগী ও রোগীর ক্যান্সার সম্পর্কিত লক্ষণ বিবেচনা করে তার মতো চিকিৎসা করা হয়। তাই একই কারণে দু-জনের ক্যান্সারের লক্ষণ আলাদা হলে চিকিৎসা পদ্ধতি ভিন্ন হবে। ক্যান্সারের পিছনে মানসিক কারণ, পারিবারিক কারণ, শারীরিক কারণ বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয়। কী ধরনের ক্যান্সার, কীভাবে ছড়াচ্ছে, ব্যথা-যন্ত্রণার মাত্রা, লক্ষণ সমস্ত বিবেচনা করে তবেই চিকিৎসা হয় ‘মল্লিক মেথড‘ হোমিওপ্যাথিতে।

‘মল্লিক মেথড’ হোমিওপ্যাথিতে কি কেমোথেরাপি প্রয়োজন আছে?
ডাঃ মল্লিক বললেন ক্যান্সার রোগীকে কেমোথেরাপি কিংবা রেডিয়েশন দেওয়া হলে তা ক্যান্সার আরও বাড়িয়ে দেয়। হাড়ে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়লে তা সারিয়ে তোলা খুবই কঠিন হয়। ‘মল্লিক মেথড’ হোমিওপ্যাথিতে কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের ব্যবহার নেই। আমাদের কাছে এমন রোগীর সংখ্যাই বেশি যাঁরা কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন দিয়েছেন, ক্যান্সার ছড়িয়ে গিয়েছে তারপর ‘মল্লিক মেথড’ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা করাতে এসেছেন।

কেন কেমোথেরাপি ক্ষতিকর?
ডাঃ মল্লিক বললেন ক্যান্সার টিস্যুর পাশাপাশি তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য টিস্যুকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে কেমোথেরাপি। মূলত কেমোথেরাপি করে অ্যাবনরমাল কোষকে পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেই অস্বাভাবিক কোষকে নষ্ট করতে গিয়ে সুস্থ কোষগুলোকেও নষ্ট করে দিচ্ছে। চুল পড়ে যাওয়া আবার চুল গজানো, রোজ নতুন রক্ত উৎপন্ন হওয়া, এই যে নর্মাল ফাংশন এটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে কেমোথেরাপি। সেক্ষেত্রে ‘মল্লিক মেথড‘ হোমিওপ্যাথি রোগ সারানোর পাশাপাশি শারীরিক অন্যান্য কাজকর্মকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে আরও হেলদি করছে। শুধুমাত্র যে সেলটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্যান্সার আক্রান্ত সেটাকেই সুস্থ করার চেষ্টা করছে। এই চিকিৎসায় ক্যান্সার রোগীর কোয়ালিটি অফ লাইফ অনেক ভাল হয়।

এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার চিকিৎসার সঠিক সময় কখন?
ডাঃ মল্লিক বললেন যত তাড়তাড়ি রোগী চিকিৎসা করাতে আসবেন তত তাড়াতাড়ি রোগী সুস্থ হবেন। নানা রকম চিকিৎসা করার পর হোমিওপ্যাথি শুরু করতে এলে তা সারানো অনেক জটিল। প্রথম অবস্থায় ‘মল্লিক মেথড’ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।

‘মল্লিক মেথড’ হোমিওপ্যাথি কি কোনও আন্তজাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে?
ডাঃ মল্লিক বললেন, এই চিকিৎসায় আমরা সফল, তার মূল প্রমাণ রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করার আগে রোগীর শারীরিক অবস্থার থেকে চিকিৎসা করার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অনেক উন্নতি দেখা গিয়েছে। এইটাই সাফল্যর মূল আস্থা। বাকি স্বীকৃতি শুধু সময়ের অপেক্ষা। এছাড়া অসংখ্য সুস্থ রোগীই তো এর স্বীকৃতি। অসংখ্য রোগী এবং ভারত ও বাংলাদেশের বহু চিকিৎসক এই পদ্ধতির মাধ্যমে সফলতা পাচ্ছেন। আমাদের কাছে প্রতিবছর ভারত, নেপাল, বাংলাদেশ, ভুটানের অনেক চিকিৎসক ট্রেনিং নিতে আসেন। এটা কি স্বীকৃতি নয়? আমাদের লেখা ক্যান্সার ও হোমিওপাথি চিকিৎসা বইটি সর্বাধিক বিক্রিত।