নিউজ পোল ব্যুরো:এক যুগেরও বেশি সময় ধরে সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। তারও আগে প্রায় তিন দশক ধরে শিল্পাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ব্যবসা কেন্দ্র রূপনারায়ণপুর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। অথচ পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের সেই হেভিওয়েট নির্বাচিত কর্মাধ্যক্ষ মহম্মদ আরমানের (Mohammad Arman Voter List Controversy) নামই এবার বাদ পড়ল চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ভোটার তালিকায় দেখা যাচ্ছে, মহম্মদ আরমানের নাম আটকে গিয়েছে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’-এর ফাঁসে। এই পুরো ঘটনাটিকে স্রেফ ‘পাগলামি’ বলে কটাক্ষ করেছেন ক্ষুব্ধ আরমান সাহেব। তাঁর সাফ কথা, সবকিছুই অত্যন্ত ভুল ভাবে চলছে।
আরও পড়ুন:https://thenewspole.com/2026/02/28/final-voter-list-north-kolkata-bankura-omissions/
ঘটনার সূত্রপাত এসআইআর পর্বের শুনানি থেকে। মহম্মদ আরমান জানান, তাঁর স্ত্রী, বোন, ভগ্নিপতি এবং কাকার পরিবারের সদস্যসহ মোট ৬ জনকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেখানে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, সার্টিফিকেটসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র তাঁরা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, সেই সব নথি যাচাইয়ের পর ক্লিনচিট দেওয়ার বদলে তাঁদের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, বিচারকরা ফের নথিপত্র খতিয়ে দেখে সন্তুষ্ট হলে তবেই পরবর্তী তালিকায় তাঁদের নাম উঠতে পারে। বিষয়টিকে অত্যন্ত অনায্য এবং অবমাননাকর বলে মনে করছেন তিনি। সবচেয়ে বিচিত্র বিষয় হলো, মহম্মদ আরমান ও তাঁর স্ত্রীর নাম তালিকায় না থাকলেও, তাঁদেরই ছেলে ও মেয়ের নাম কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় যথাযথভাবে স্থান পেয়েছে। এই স্ববিরোধিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরমান বলেন, বাবা-মাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা হলো অথচ তাঁদেরই সন্তানদের নাম উঠে গেল ভোটার তালিকায়—একে পাগলামি ছাড়া আর কী-ই বা বলা যায়!
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
বারাবনি বিধানসভা কেন্দ্রের সালানপুর ব্লকের ৭১ নম্বর বুথের ভোটার মহম্মদ আরমান ও তাঁর পরিবার। পরিসংখ্যান বলছে, এই বুথে এসআইআর প্রক্রিয়ার আগে মোট ভোটার ছিলেন ৪৫০ জন। পরবর্তী সময়ে ৩৭০ জনের নাম নথিভুক্ত হলেও তাঁদের মধ্যে আবার ২৩ জনের নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র এই একটি বুথেই প্রায় ১০৩ জনের নাম হয় বাদ পড়েছে অথবা আপাতত অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহম্মদ আরমানের (Mohammad Arman Voter List Controversy) মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বই যদি এই বিড়ম্বনার শিকার হন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। প্রতিটি বুথেই যথাযথ কারণ ছাড়াই এইভাবে বহু ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে এখন সরগরম শিল্পাঞ্চল।
