Health Tips: গর্ভপাতের ধাক্কা কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবেন কীভাবে? ভুলেও করবেন না এই ৭টি মারাত্মক ভুল

লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: মা হওয়া একটি নারীর জীবনের অন্যতম আবেগঘন মুহূর্ত। তবে নানা কারণে কখনও কখনও গর্ভপাত বা অ্যাবরশনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এই অভিজ্ঞতা একজন মহিলার শরীরের পাশাপাশি মানসিক অবস্থার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। গর্ভপাতের পর শরীর (Health Tips) অনেকটা সময় ধরে দুর্বল থাকে এবং হরমোনেরও নানা পরিবর্তন ঘটে। তাই এই সময় নিজের প্রতি বাড়তি যত্ন (Health Tips) নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

আরও পড়ুন: Travel Guide: ভ্রমণপাগল সঙ্গীর মন জিততে চান? এই উপহারগুলোই হতে পারে সেরা চমক!

চিকিৎসকদের মতে, অস্ত্রোপচার হোক বা ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত পরবর্তী সময়টা খুব সতর্কভাবে কাটানো প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র পরামর্শ অনুযায়ী, এই সময়ে অসতর্কতা সংক্রমণ বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য কিছু সাধারণ ভুল থেকে দূরে থাকা (Health Tips) প্রয়োজন।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া

অনেকেই গর্ভপাতের কিছুদিনের মধ্যেই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করে দেন। কিন্তু এই সময় শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। গর্ভাশয়কে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগে। অতিরিক্ত কাজকর্ম করলে রক্তপাত বাড়তে পারে এবং শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

ভারী কাজ বা ওজন তোলা

অ্যাবরশনের পর অন্তত দু’সপ্তাহ ভারী কিছু তোলা বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা ঠিক নয়। এতে তলপেটে চাপ পড়ে এবং ভেতরের ক্ষত সারতে দেরি হতে পারে।

চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ মাঝপথে বন্ধ করা

গর্ভপাতের পর সাধারণত সংক্রমণ এড়াতে অ্যান্টিবায়োটিক বা ব্যথা কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়। অনেকেই ব্যথা কমে গেলেই ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন, যা বিপজ্জনক হতে পারে। এতে শরীরে সংক্রমণ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

খাবারদাবারে অবহেলা করা

গর্ভপাতের সময় অনেক ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণ হয়, যার ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। তাই এই সময় পুষ্টিকর খাবার খাওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আয়রন, প্রোটিন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার—যেমন সবুজ শাকসবজি, ডাল, ডিম, দুধ ও শুকনো ফল শরীরের শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করাও জরুরি।

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতায় অবহেলা

এই সময় সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে পোশাক পরে থাকা এড়িয়ে চলুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও বিশেষ ধরনের ইন্টিমেট পণ্য ব্যবহার করবেন না।

মানসিক কষ্ট চেপে রাখা

গর্ভপাতের প্রভাব শুধু শরীরেই নয়, মনেও পড়ে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মন খারাপ, হতাশা বা উদ্বেগ দেখা দিতে পারে। এই সময় একা না থেকে পরিবার বা কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনে কাউন্সেলিংও নেওয়া যেতে পারে।

ফলো-আপ চেক-আপ এড়িয়ে যাওয়া

অনেকেই মনে করেন সব ঠিক আছে, তাই আর ডাক্তারের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু গর্ভপাতের পর চিকিৎসকের কাছে নির্ধারিত সময়ে চেক-আপ করা অত্যন্ত জরুরি। এতে শরীরের ভেতরে কোনও সমস্যা থাকলে তা দ্রুত ধরা পড়ে।

কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

যদি দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত রক্তপাত হয়, তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়, জ্বর আসে বা অস্বাভাবিক দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব বের হয় তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সঠিক যত্ন ও সচেতনতা বজায় রাখলে গর্ভপাতের পর ধীরে ধীরে শরীর আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে পারে। তাই এই সময় নিজের শরীর ও মনের প্রতি যত্নশীল হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole