নিউজ পোল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election 2026) ঘিরে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। কত দফায় ভোট হবে, কবে থেকে শুরু হবে ভোটগ্রহণ—এই প্রশ্ন এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের (Election Commission of India) দুই দিনের বৈঠক শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই প্রসঙ্গেই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Chief Election Commissioner Gyanesh Kumar)। তিনি জানান, এখনও চূড়ান্তভাবে দফার সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়নি। রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি (Law and Order Situation) খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সব পক্ষের মতামত শুনেই বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি। কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই সম্ভবত ভোটের পূর্ণ সূচি (Election Schedule) ঘোষণা করা হতে পারে।
আরও পড়ুন : LPG : গ্যাস বুকিংয়ে বড় বদল কেন্দ্রের, ২১ দিনের বদলে নতুন নিয়ম জারি সঙ্কটের আবহে
গত রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিনিধিদল বাংলায় পৌঁছয়। এরপর সোমবার থেকে শুরু হয় একাধিক বৈঠক। প্রথম পর্যায়ে রাজ্যের ২৩টি জেলার জেলাশাসক (District Magistrate), জেলা পুলিশ সুপার (Superintendent of Police) এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের মোট ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিশনের প্রতিনিধিরা। পরে শাসক দল, বিরোধী দল এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়। এই ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা (Election Security Arrangements) নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সব বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (Free and Fair Election) আয়োজন করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। কোনও ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি (Electoral Malpractice) বরদাস্ত করা হবে না। নির্বাচনের কাজে যুক্ত রাজ্যের আধিকারিকদের কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ (Election Commission Guidelines) মেনেই কাজ করতে হবে। যদি কোনও আধিকারিক রাজনৈতিক প্রভাবের কাছে নতিস্বীকার করেন বা নিরপেক্ষতা বজায় না রাখেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
পাশাপাশি ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বুথে প্রবেশের আগে ভোটারদের নির্দিষ্ট স্থানে মোবাইল ফোন (Mobile Phone Restriction at Polling Booth) জমা রাখতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েব কাস্টিং (Webcasting in Polling Booths) থাকবে যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নজরদারিতে রাখা যায়। এছাড়াও ইভিএমে (Electronic Voting Machine) প্রার্থীদের রঙিন ছবি থাকবে, যাতে ভোটাররা সহজেই নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে শনাক্ত করতে পারেন। সব মিলিয়ে কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা—নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনওরকম ভয়ভীতি বা অনিয়ম হলে ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance Policy) নীতিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন সকলের নজর কমিশনের ঘোষণার দিকে—কবে প্রকাশ্যে আসবে বাংলার বহুল প্রতীক্ষিত ভোটের দিনক্ষণ।
