নিউজপোল ব্যুরো: উত্তমকুমার পরবর্তী যুগের হিরোদের মধ্যে একজন ছিলেন সন্তু মুখোপাধ্যায় (Santu Mukhopadhyay)। শর্মিলা ঠাকুর, মুনমুন সেন, মহুয়া রায়চৌধুরী, সুমিত্রা মুখোপাধ্যায়ের মতো অভিনেত্রীদের হিরো হতেন সন্তু। তবে হিরো হিসেবে তিনি লম্বা দৌড়ের ঘোড়া ছিলেন না। তবে বলিষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে চিরকাল দর্শকের মনে ছিলেন তিনি। তবে ধারাবাহিকে হিরো রূপে সন্তু মুখোপাধ্যায় চূড়ান্ত সফলতা পান। কলকাতা দূরদর্শনের লেজেন্ডারি সিরিয়াল (Serial) ‘জন্মভূমি’ (Janmabhumi)তে নায়ক রতিকান্ত চৌধুরী রূপে সন্তু মুখোপাধ্যায় আজও কাল্ট।
আজকের দিনেই ছ বছর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ প্রয়াত হন সন্তু মুখোপাধ্যায়। করোনার ভিতর মারা যান অভিনেতা। যদিও তাঁর মৃত্যু করোনাতে হয়নি।

সন্তুর স্ত্রী আগেই প্রয়াত হয়েছিলেন। সন্তুর দুই কন্যা অজপা আর স্বস্তিকা। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (swastika mukherjee) আজ বাবার মৃত্যুদিনে (death anniversary) ফেসবুকে আবেগপ্রবণ হয়ে লিখলেন
“কত কিছু ঘটতে থাকে প্রতিনিয়ত, কত রঙ্গ দেখাচ্ছে দুনিয়া, তুমি থাকলে রোজ রাতে এই নিয়ে আমাদের মিটিং চলত আমি নিশ্চিত, তুমি হাসি দিয়ে শুরু করে তারপর গালাগাল দিয়ে ভুত ভাগাতে। তোমার ওই অট্ট হাসি রোজই মনে পড়ে বাবা।
প্রাণ মন খোলা হাসির প্রতিযোগিতা হলে তুমি আর মা প্রত্যেকবার প্রথম প্রাইজ পেতে। আহা। অমন করে আজকাল কেউ হাসে না। বেশি জোরে হাসলে আবার লোকে কি বলবে এই চিন্তা এখন বড় চিন্তা।

কোনও নতুন কাজ শুরু করলে মনে হয় ইশ এটা তুমি জেনে গেলে পারতে। কোনও নতুন কাজ বেরোলে মনে হয় ইশ এটা তুমি দেখে গেলে পারতে।
ইশ এর পাহাড় একদিন কাঞ্চনজঙ্ঘা কেও ছাড়িয়ে যাবে বাবা। এই দিনটা এলেই সকাল থেকে মনটা কেমন ঘড়ির দিকে তাকিয়ে থাকে। এখনও ছিলে, এখনও বাইরের ঘরের খাট টায় তোমায় দেখতে পাচ্ছিলাম। এখনও তোমার গায়ে হাত দিলে তুমি জানান দিচ্ছিলে আছো।
এই আছো টাই আশ্রয়। সে থাকা যেমনই হোক তবু তো থাকা। বটের ছায়ার মতন আরামের, শান্তির, ভরসার।
ভালো থেকো বাবা। যত্নে থেকো।

জীবনে যত্ন টাই সব। তোমার বড় স্টিলের গেলাস টাই এখন আমার গেলাস। দাদার গেলাস থেকে নাম পাল্টে এখন ওটা বড়দির গেলাস হয়েছে। যতবার ওটা হাতে নিয়ে চুমুক দিই ততবার তোমার হাত টা চোখের সামনে ভাসে। পুরুষ মানুষের অমন সুন্দর হাত পা জন্মে দেখিনি। অবিকল ঈশ্বরের মতন।
সুন্দর মানুষ, সুন্দর থেকো। আর আমাদের যা কথা ছিল মনে রেখ। পরের বারটায় তুমিই আসছো কিন্তু। ভুলে আবার অন্য কোথাও চলে যেওনা।
কোথা দিয়ে হুশ করে ৬ টা বছর কেটে গেল বাবা। এইভাবেই হুশ করে বাকিটাও চলে যাবে তারপর আবার তোমায় দেখতে পাব। মেঘের দেশে।
তোমায় আমি খুব ভালবাসি বাবা। রোজ বাড়ি ফিরে একবার করে তোমায় সে কথা বলা উচিত ছিল। বলিনি। দেখা হলে জাপটে জড়িয়ে ধরে বলব না হয়।
শুটিং করতে পাহাড়ে এসছি। আজ ভোর থেকে কেমন মেঘাচ্ছন্ন হয়ে আছে চারদিক। এই মেঘের মধ্যেই তুমি আছো, তাই বারান্দা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ছ বুঝি ? তুমি আছো জানান দিচ্ছো বাবা? আকাশ থেকে নেমে তাই এভাবে আলিঙ্গন করছ?
আকাশটাও আজ কেমন থম মেরে আছে, তারও যেন মন খারাপ। সে আঁচল বিছিয়ে কার পথ আগলে আছে কে জানে ?!
১১ই মার্চ ।’
