নিউজ পোল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান (Iran US War) সংঘাত ক্রমেই নতুন ও উদ্বেগজনক রূপ নিচ্ছে। যুদ্ধ আর শুধু সীমান্তে সেনাবাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এবার প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোও সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ সম্প্রতি এমন একটি তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে বেশ কয়েকটি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থার অফিস ও অবকাঠামোকে সম্ভাব্য টার্গেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির উপর বাড়ছে নজর
প্রকাশিত তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থাগুলির নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, এনভিডিয়া, আইবিএম, ওরাকল এবং প্যালান্টির টেকনোলজিস। ইরানের (Iran) দাবি, এই সংস্থাগুলির অনেক প্রযুক্তি বা পরিষেবা আমেরিকা ও ইসরায়েলের (Iran US War) সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত। সেই কারণেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই প্রতিষ্ঠানগুলিকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে দেখা হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন: Gas Crisis: ধূপগুড়িতে গ্যাসের হাহাকার, বন্ধ হতে চলেছে মিষ্টির দোকান সহ হোটেল , কালোবাজারির অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ অফিস ও ডেটা সেন্টার
মধ্যপ্রাচ্যের (Iran US War) বিভিন্ন দেশে এই সংস্থাগুলির বড় অফিস ও ডেটা সেন্টার রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি পরিষেবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেমন দুবাই ও কাতারে গুগলের অফিস রয়েছে। একইভাবে মাইক্রোসফটের আঞ্চলিক সদর দপ্তর ও ক্লাউড পরিষেবার একটি বড় অংশ এই অঞ্চলে পরিচালিত হয়। এছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও বাহরাইনে অ্যামাজনের একাধিক বৃহৎ ক্লাউড ডেটা সেন্টার রয়েছে, যা বহু সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পরিষেবার ভিত্তি।
ডিজিটাল অবকাঠামোও এখন যুদ্ধের লক্ষ্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। এখন আর শুধু সামরিক ঘাঁটি নয়, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোকেও আঘাত করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি ২০২৬ সালের ১ মার্চ ইরানি ড্রোন হামলায় অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের (AWS) কয়েকটি ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই হামলার ফলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও বাহরাইনের কিছু ক্লাউড অবকাঠামোতে বিঘ্ন ঘটে এবং একাধিক অনলাইন পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার জেরে স্টোরেজ, ডেটাবেস ও কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের মতো ক্লাউড পরিষেবায় সমস্যা দেখা দেয়। এর প্রভাব পড়ে বিভিন্ন কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল পরিষেবায়। এমনকি ব্যাংকিং ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা মাথায় রেখে ইরান তাদের নাগরিকদের ব্যাংক ও বড় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির অফিসের আশপাশে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ডেটা সেন্টার বা ক্লাউড অবকাঠামোর উপর হামলা বাড়ে, তাহলে তার প্রভাব শুধু ওই অঞ্চলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা ও ক্লাউড পরিষেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এটি আধুনিক যুদ্ধের এক নতুন কৌশলের ইঙ্গিত। যেখানে শত্রু দেশের সেনাবাহিনীকে সরাসরি আঘাত না করে তার প্রযুক্তিগত ভিত্তি যেমন ডেটা সেন্টার, ক্লাউড নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেম দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
